‘টাকা আছে তো সব আছে!’, বিলাসিতার খরচ দিতে না পারায় ডেলিভারি বয় স্বামীকে ছাড়ে সুন্দরী পত্নী; প্রেম নাকি ছিল কেবলই ‘ভুল’!

আইনবিদ্যায় স্নাতক, সরকারি চাকরিজীবী এক ব্যক্তির জীবনে এক স্বপ্নের মতো শুরু হয়েছিল। অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে পরিচয় হয় অপরূপা সুন্দরী এক নারীর সঙ্গে, যা গড়ায় পরিণয় পর্যন্ত। চিনের ঝেঝিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা, সে সময় মাসে প্রায় ৫০ হাজার ইউয়ান (৬ লক্ষ টাকারও বেশি) বেতনের অধিকারী ওই যুবক তাঁর রূপসী স্ত্রীকে পেয়ে খুবই খুশি ছিলেন। তিনি ভাবতেন, তাঁর ব্যক্তিত্বের টানেই বহু পুরুষের ভিড় এড়িয়ে যুবতী তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
কিন্তু ৫ বছর আগে সেই স্বপ্নের পতন ঘটে। অজ্ঞাত কারণে তাঁর উচ্চ বেতনের সরকারি চাকরিটি চলে যায়। শুরু হয় ঘোর দুর্দিন। স্বামীর চাকরি গেলেও স্ত্রীর বিলাসিতা কিন্তু বিন্দুমাত্র কমেনি। উল্টে তাঁর রূপচর্চা ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রার খরচ সামাল দিতে গিয়ে স্বামীর সমস্ত সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। এমনকি, অভিযোগ, এই বিপুল খরচ মেটাতে তাঁর রূপসী স্ত্রী তাঁকে বাধ্য করে ফ্ল্যাট বিক্রি করিয়ে কার্যত কপর্দকশূন্য করে দেন।
এরপর নিরুপায় হয়ে ওই ব্যক্তি যখন ডেলিভারি বয়ের কাজ নেন এবং তাঁর মাসিক আয় ১০ হাজার ইউয়ানেরও কমে দাঁড়ায়, তখনই সম্পর্কে আসে চূড়ান্ত ফাটল। স্বামী আর তাঁর ব্যয়বহুল জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে পারছেন না বুঝেই বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটেন স্ত্রী।
ডিভোর্সের পর ওই ব্যক্তির উপলব্ধি হয়—মানুষ হিসেবে নয়, শুধুই অর্থের লোভে তাঁকে বিয়ে করেছিলেন ওই যুবতী। আর তিনিও কেবল রূপের মোহে পড়ে স্ত্রীর সম্পর্কে কোনো খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। বর্তমানে একাই আছেন ওই ব্যক্তি, তবে স্বস্তিতে ও নিজের কাজ নিয়ে ভালো আছেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এ প্রকাশিত এই ঘটনাটি টাকার জোরে ভালোবাসা এবং বিলাসিতার পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।