দিল্লি বিস্ফোরণে এবার মধ্যপ্রদেশ যোগ? গ্রেপ্তার আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির কর্ণধারের ভাই

দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে এবার বড় সাফল্য পেল পুলিশ। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির কর্ণধার জাভেদ সিদ্দিকির ভাই হামুদ সিদ্দিকিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মোহ শহরের বাসিন্দা হামুদকে রবিবার সন্ধ্যায় হায়দরাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর ফলে দিল্লির ঘটনার তদন্তে মধ্যপ্রদেশের মোহ শহরের নামও জুড়ে গেল।

২৫ বছর ধরে পলাতক, গ্রেপ্তার হায়দরাবাদ থেকে

সূত্রের খবর, অভিযুক্ত হামুদ গত প্রায় ২৫ বছর ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হায়দরাবাদ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি নিজেকে একজন শেয়ার ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়ে বসবাস করতেন।

দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক চিকিৎসকের নাম উঠে আসার পর পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করে। সেই সূত্র ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার জাভেদ সিদ্দিকির ভাই হামুদ সিদ্দিকির খোঁজ মেলে।

বেআইনি অর্থলগ্নি ও প্রতারণার অভিযোগ

হামুদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:

  • সংস্থা পরিচালনা: অভিযোগ, হামুদ মোহ শহরে একটি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা চালাতেন।

  • প্রতারণা: সেখানকার একাধিক পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। হামুদ মূলত ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরতদের পরিবারের লোকজনকে নিশানা করতেন।

  • পলায়ন: বিনিয়োগকারীরা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে হামুদ কিছু টাকা ফেরত দিয়ে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করতেন। এরপর সপরিবারে মোহ শহর ছেড়ে চলে যান।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাভেদ তাঁর ভাই হামুদের নামে ‘আল-ফালাহ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ তৈরি করেছিলেন। সম্ভবত, এই সংস্থার মাধ্যমেই হামুদ সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন।

ভাইকে জেরা ও দাদার উপর চাপ

পুলিশ জানিয়েছে, জেরার মুখে হামুদ যদি তাঁর দাদা জাভেদ সিদ্দিকির নাম প্রকাশ করে, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে হামুদকে মোহ শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানকার জেলে তাঁকে জেরা করা হচ্ছে। আজ, সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে। মোহ ছেড়ে যাওয়ার পরে তিনি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং কোন সূত্র থেকে তাঁর কাছে টাকা আসত, সেই সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।