স্করপিওতে ঠাসা কোটি কোটি টাকা,পুলিশের হাতে আটক ২, বড় প্ল্যান?

রীতিমতো সিনেমার কায়দায় অভিযান চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। একটি দুধ সাদা স্করপিও এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ক্যাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আকরাম খান (৩৫) ও ইমরান খান (৩১) নামে দুই যুবককে আটক করেছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫, গোপন সূত্রে খবর আসে নারায়ণপুর থানা পুলিশের কাছে। জানা যায়, বীরভূম থেকে আসা একটি সাদা স্করপিও গাড়ি সন্দেহজনক গতিবিধি দেখাচ্ছে। এরপরেই নারায়ণপুর বারো মাথার মোড়ে নাকা চেকিং শুরু হয়।

কীভাবে উদ্ধার হলো টাকা?

নাকা চেকিংয়ের সময় সাদা স্করপিও গাড়িটি আটক করা হয়। গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকেও পাকড়াও করে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, গাড়ির ভেতরে বড় বড় জিপ লক ব্যাগে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ভর্তি। নভেম্বরের ফুরফুরে সকালেও এত টাকা দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান এবং ঘামতে শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। এরপরই তৎক্ষণাৎ গাড়ি ও টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ধৃতেরা বীরভূমের বাসিন্দা, নেই বৈধ কাগজ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তিই বীরভূমের বাসিন্দা। তবে তাদের কাছ থেকে এত বিপুল পরিমাণ টাকাপয়সা সংক্রান্ত কোনও বৈধ কাগজপত্রই পাওয়া যায়নি। দামী গাড়িতে করে এত টাকা নিয়ে কোথায় যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তারা এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেনি। বিষয়টি যে অত্যন্ত সন্দেহজনক, তা বলাই বাহুল্য।

অর্থপাচার চক্রের যোগসূত্র?

এই ঘটনায় নারায়ণপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য পুলিশের STF। তদন্তকারীরা বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করছেন। একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে:

  • টাকার উৎস ও গন্তব্য: এত টাকা কোথা থেকে এল এবং কোথায়ই বা যাচ্ছিল?

  • বেআইনি লেনদেন: এই নগদ টাকার পিছনে অর্থপাচার (Money Laundering) বা হাওয়ালা চক্রের যোগ থাকতে পারে।

  • অপরাধ চক্র: এর সঙ্গে কোনও বড়সড় বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা জাল নোট চক্রেরও যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।

পুলিশের একাংশের মতে, এই ঘটনার সূত্র ধরে আরও বড়সড় কোনও অপরাধ চক্রের হদিস মিলতে পারে। আপাতত সেদিকেই কড়া নজর রাখছে গোয়েন্দা মহল।