‘ভুল কার? প্রমাণ দিতে হবে ব্যাঙ্ককেই!’ গ্রাহকের ₹১ লাখ খোয়া যাওয়ার ঘটনায় SBI-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রায়

সাইবার জালিয়াতির ক্রমবর্ধমান ঘটনায় অনেক সময়ই ব্যাংক গ্রাহকদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে চায় না, যার পুরো দায়ভার এসে পড়ে নিরীহ ভোক্তাদের কাঁধে। সম্প্রতি চণ্ডীগড়ে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর এক গ্রাহকের UPI জালিয়াতির ঘটনায় জেলা ভোক্তা কমিশন এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। এতে ব্যাঙ্ককেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হয়েছে।

২০২১ সালে সঞ্জীব কুমার শর্মা নামে এক অ্যাকাউন্ট হোল্ডার ₹৯৯,৯৪০ টাকার প্রতারণার শিকার হন। কমিশন এখন ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে, প্রতারণার তারিখ থেকে ৯% সুদসহ সম্পূর্ণ অর্থ গ্রাহককে ফিরিয়ে দিতে হবে।

কীভাবে হয়েছিল এই জালিয়াতি?

এসবিআই-এর চণ্ডীগড় হাইকোর্ট ব্রাঞ্চের গ্রাহক সঞ্জীব কুমার শর্মার সেভিংস অ্যাকাউন্ট ছিল। ২০২১ সালের ২১ জুলাই, দুপুর আড়াইটা নাগাদ তাঁর মোবাইলে একের পর এক মেসেজ আসে—যার মাধ্যমে ₹২৫ হাজার, ₹২৫ হাজার, ₹২৫ হাজার, ₹২৪,৫৬০ এবং ₹২০০ করে মোট ₹৯৯,৯৪০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গেই শর্মা তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্লক করান এবং পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করেন।

ব্যাংকের দাবি কী ছিল?

টাকা ফেরত চেয়ে শর্মা ব্যাংকের দ্বারস্থ হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ব্যাংক যুক্তি দেখায় যে, UPI লেনদেনে গ্রাহক নিজেই পিন প্রবেশ করিয়ে লেনদেন করেন। তাই এক্ষেত্রে ব্যাংকের কোনো ত্রুটি নেই এবং প্রতারণার এই টাকা ব্যাংক ফেরত দেবে না।

কমিশনের ঐতিহাসিক রায়

জেলা ভোক্তা কমিশন ব্যাংকের এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। কমিশন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৬ জুলাই ২০১৭ সালের সার্কুলার এবং জাতীয় কমিশন ও বম্বে হাইকোর্টের একাধিক রায়ের কথা উল্লেখ করে। ওই সার্কুলারে স্পষ্ট বলা আছে যে, অনুমোদনহীন ইলেকট্রনিক লেনদেনে গ্রাহকের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করার বোঝা ব্যাঙ্কের উপরই বর্তায়। থার্ড পার্টি ব্রাচের ক্ষেত্রে গ্রাহককে দায়ী করা যায় না।

এই রায়ের ভিত্তিতে কমিশন স্টেট ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দিয়েছে, ₹৯৯,৯৪০ টাকা প্রতারণার দিন থেকে ৯ শতাংশ সুদ সহ দ্রুত গ্রাহককে ফিরিয়ে দিতে হবে। এটি সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকদের জন্য এক বড় স্বস্তি।