শোকাহত পিতার আত্মহত্যার চেষ্টা! আটককৃতদের সাথে দেখা করতে না দেওয়ায় কাশ্মীরে আতঙ্ক, সরব পিডিপি প্রধান।

দিল্লিতে ভয়াবহ বোমা হামলার পর থেকেই তদন্তকারী সংস্থাগুলি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। এই বিস্ফোরণের পর থেকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি প্রায় ১,৫০০ কাশ্মীরিকে আটক করেছে, যা উপত্যকার সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন পিডিপি (PDP) প্রধান মেহবুবা মুফতি।
মুফতির সরকারের প্রতি তোপ
পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “আপনি বিশ্বকে বলেছেন যে কাশ্মীরে সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু কাশ্মীরের সমস্যা লাল কেল্লার বাইরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আপনি জম্মু ও কাশ্মীরকে নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করার পরিবর্তে, আপনার নীতি দিল্লিকে অনিরাপদ করে তুলেছে।”
তিনি আরও বলেন যে, “যদি একজন শিক্ষিত যুবক, একজন ডাক্তার, নিজের শরীরে আরডিএক্স বেঁধে আত্মহত্যা করে এবং অন্যদের হত্যা করে, তাহলে এর অর্থ হল দেশে কোনও নিরাপত্তা নেই। হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে ভোট পেতে পারেন, কিন্তু দেশ কোথায় যাচ্ছে?” একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের কতজন লোক সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী।
আটকের জেরে বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা
সম্প্রতি আটককৃতদের নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এক কাশ্মীরির আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় ব্যথিত হয়েছেন মেহবুবা মুফতি। তিনি বিলাল ওয়ানির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “কয়েকদিন আগে পুলিশ তার ছেলে জসির বিলাল এবং ভাই নাভিল ওয়ানিকে আটক করার পর ওয়ানপোরা কাজিগুন্ডের শোকাহত বাবা বিলাল ওয়ানি আত্মহত্যা করেন। তার নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের সাথে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।” তাকে এসএমএইচএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মুফতি পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন, অন্তত বিলাল ওয়ানিকে তার আটককৃত পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার জন্য।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
যে দিল্লি বিস্ফোরণে প্রায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন, তার তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) রবিবার জানিয়েছে যে তারা লাল কেল্লা বিস্ফোরণ মামলার একজন প্রধান ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবারই এনআইএ প্রথমবারের মতো গাড়ির চালক উমরকে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে।