জেলে বসেই চাকরি বিক্রি! TMC বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শুভেন্দু, প্রকাশ করলেন অডিয়ো ক্লিপ

মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলে থেকেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং চাকরি দেওয়ার নামে টাকা লেনদেন চালাচ্ছেন—এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে একের পর এক অডিয়ো ক্লিপ, ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করে তিনি এই গুরুতর দাবি করেন।
বিস্ফোরক অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিধায়ক কারাগারে থাকা সত্ত্বেও অবাধে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন এবং সদ্য প্রকাশিত পরীক্ষার ফলেও প্রভাব খাটিয়েছেন। তিনি নিজের মোবাইল ফোন থেকে একটি অডিয়ো ক্লিপ প্লে করেন, যার তারিখ তিনি ১৬ নভেম্বর বলে দাবি করেন। ক্লিপটিতে পুরুষকণ্ঠ (যা জীবনকৃষ্ণ সাহার বলে দাবি শুভেন্দুর) ও নারীকণ্ঠের কথোপকথন শোনা যায়:
পুরুষকণ্ঠ: “এই মুহূর্তে ৫০ টাকা আগে পাঠাতে হবে…”
নারীকণ্ঠ: “হ্যাঁ স্যর, টাকা চলে এসেছে। আমি পাঠাচ্ছি। স্যর, ১৫ লক্ষ ৫০ হাজার আপনাকে দেওয়া হল।” এই কথা বলার পরই ফোনটি কেটে যায়।
আরেকটি অডিয়ো ক্লিপে শোনা যায়, নারীকণ্ঠের প্রশ্নে (কবে ফিরবেন?) জবাবে পুরুষকণ্ঠ বলছে, “তাড়াতাড়ি চেষ্টা করছি… একই মানুষকে কতবার ধরবে? আগে সিবিআই ধরল, একবার ইডি ধরছে। যখন ধরবি তো একসঙ্গে ধরে নে।”
‘জেলে ফাইভ স্টার ব্যবস্থা’
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ এখানেই থামেনি। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “জেলে গেলে কিছু হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে হবে। পার্থ-জীবনের মতো লোকজনকে ইডি পাঁচ দিন পিসিতে রাখছে, তারপর তো জেলে পাঠাতে হচ্ছে। সেখানে ফাইভ স্টার ব্যবস্থা, গরমকালে এসি, শীতকালে গরম জল। তৃণমূলের লেভেল হাই চোর হলে ওদের জন্য পিজির উডবার্ন ওয়ার্ড আছে।”
প্রসঙ্গত, জীবনকৃষ্ণ সাহা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পরপর দু’বার গ্রেফতার হন এবং বর্তমানে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, জেলে থাকা সত্ত্বেও তাঁর প্রভাব এতটুকু কমেনি এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে তিনি নিজের সুবিধামতো নিয়ন্ত্রণ করছেন।