গৌরাঙ্গ সেতু বন্ধ: শেষযাত্রাতেও দুর্ভোগ! শববাহী গাড়ি ছেড়ে কাঁধে দেহ নিয়ে শ্মশানের পথে যাত্রীরা!

নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতুর জরুরি মেরামতির কাজ শুরু হওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ছ’টা থেকে সেতুতে বড় ধরনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই সমস্ত প্রকার যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সেতুর উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কাঁধে শব, নৌকা ভাড়া করে সৎকার
মেরামতির প্রথম দিনেই চরম ভোগান্তির শিকার হলেন বেশ কিছু শ্মশানযাত্রী। মৃতব্যক্তির শববাহী গাড়ি নিয়ে তাঁরা যখন নবদ্বীপ মহাশ্মশানের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন নিয়ম মেনে সেতুর এক প্রান্তে গাড়ি থামিয়ে দিতে হয়। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা গাড়ি থেকে দেহ নামিয়ে কাঁধে তুলে মহাশ্মশানের উদ্দেশে হাঁটা পথে রওনা দেন। অন্য একটি শ্মশানযাত্রীর দল তাদের গাড়ি ঘুরিয়ে নবদ্বীপ স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাটে এসে পৌঁছায়। সেখানে গাড়ি রেখে তারা রীতিমতো নৌকা ভাড়া করে সৎকারের জন্য রওনা দেন। প্রথম দিনেই প্রায় ১৫টি শ্মশানযাত্রীর দল স্বরূপগঞ্জ ঘাটে এই ভোগান্তির সম্মুখীন হয়।
৪৫ দিন কঠোর বিধিনিষেধ
পূর্ত দফতর জানিয়েছে, সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের স্বার্থে এই জরুরি মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু দিনে আংশিকভাবে যান চলাচলের অনুমতি থাকলেও, আগামী ৪৫ দিন কার্যত যানবাহন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি থাকবে।
দৈনন্দিন যাত্রী এবং পরিবহণ পরিষেবা এই দীর্ঘ বিধিনিষেধের কারণে গুরুতর সমস্যায় পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে কাজ শেষ করে সেতু খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতি চলছে। তবে যতদিন না কাজ শেষ হচ্ছে, ততদিন গৌরাঙ্গ সেতুকে কেন্দ্র করে দুর্ভোগ বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।