রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করলেই ৫০০ শতাংশ শুল্ক, হুমকি ট্রাম্পের; জেনেনিন কী করবে ভারত?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে এবার এক চরম পদক্ষেপ নিতে চলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মস্কোর সঙ্গে এখনও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির ওপর ‘৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক’ চাপানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত রাশিয়ার তেল আমদানিকারী দেশ হিসেবে ভারতের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফ্লোরিডায় উড়ে যাওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “রিপাবলিকানরা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির উপর কঠোর আইন প্রণয়ন করতে চলেছে।” নতুন সেনেট আইনকেও তিনি সমর্থন জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
⚠️ কেন বাড়ছে ভারতের ভয়?
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের কারণে সবচেয়ে বেশি ভয় বাড়ছে ভারতের। কারণ, রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারত ইতিমধ্যেই আমেরিকার থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক (মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ)-এর বোঝা বহন করছে।
যদি নতুন করে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়, তবে ভারতীয় অর্থনীতির ওপর এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
💸 আমেরিকার গোঁসা কোথায়?
আমেরিকার বক্তব্য স্পষ্ট: কিছু দেশ রাশিয়া থেকে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি কেনার ফলেই রাশিয়ার হাতে বিপুল অর্থ আসছে, যা তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করছে। আমেরিকা চায়, এই দেশগুলি বাণিজ্য বন্ধ করুক। কিন্তু আগের শুল্ক চাপিয়েও কাজ না হওয়ায় এবার তারা আরও বড় ধাক্কা দিতে চাইছে।
নতুন বিলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর কথা বলা হয়েছে। এই বিল পাশ হলে বিশ্ব অর্থনীতি বিগড়ে যেতে পারে।
🇨🇳 ভারত ও চিন রয়েছে ট্রাম্পের নিশানায়!
ট্রাম্পের এই শুল্কের আওতায় যে চিন এবং ভারত থাকবে, সেই ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকেও এই শুল্কের আওতায় আনা হতে পারে।
আমেরিকার সেনেট নেতা জন থুনে জানিয়েছেন, অক্টোবরেই এই বিষয়ে একটি ভোট করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যদিও এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো দিন ঘোষণা করতে নারাজ।
এখন দেখার বিষয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ৫০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি বাস্তবে পরিণত করেন, নাকি এটি শুধু একটি ‘ফাঁকা আওয়াজ’ হয়েই থেকে যায়। পাশাপাশি, এই পরিস্থিতিতে ভারত তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে কী কৌশল নেয়, সেদিকেই নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।