হাসিনার বিরুদ্ধে ঠিক কোন ৫ অভিযোগ? সাজা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে কি ? রইল বিস্তারিত

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়দান ও সাজা ঘোষণা আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হতে চলেছে। এই মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ হতে পারে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নৃশংসতা, হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী নির্দিষ্ট পাঁচটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই রায় ঘোষণাকে ঘিরে গোটা বাংলাদেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটসাঁট করা হয়েছে।
📌 শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৫টি গুরুতর অভিযোগ:
মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে পাঁচ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলি নিম্নরূপ:
১. উস্কানিমূলক মন্তব্য ও হত্যাকাণ্ড:
-
অভিযোগ: ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এর ফলস্বরূপ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন-এর প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক হামলা চালায়।
-
ফলাফল: হত্যা, হত্যার চেষ্টা এবং নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তদের কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
২. ড্রোন থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ:
-
অভিযোগ: আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য ড্রোন থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন।
-
গুরুত্ব: ট্রাইব্যুনাল একে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে।
৩. রংপুরে ছাত্র হত্যায় সরাসরি নির্দেশ:
-
অভিযোগ: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাইদ নামে এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
-
দায়িত্ব: এই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা সহ ৩ জনকে নির্দেশ, উস্কানি, সহায়তা এবং ষড়যন্ত্রের জন্য সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
৪. রাজধানীর চাঁনখারপুলে ৬ ছাত্রের মৃত্যু:
-
অভিযোগ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ৬ জন ছাত্র নিহত হন। এই ঘটনাতেও শেখ হাসিনা সহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
৫. আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো:
-
অভিযোগ: ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ৫ জনের লাশ পুলিশ দেয় এবং গুরুতর আহত ১ জনকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে হাসিনা সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে।
🗣️ প্রসিকিউশন বনাম ডিফেন্স:
চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা যে তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করেছি, তা ‘হিমালয়ের মতো দৃঢ়, ক্রিস্টালের মতো স্বচ্ছ’। পৃথিবীর যে কোনো আদালতে এই তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হলে অপরাধ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হবে।”
অন্যদিকে, হাসিনার আইনজীবী মহম্মদ আমির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি। এর কোনো তথ্যপ্রমাণ প্রসিকিউশন দাখিল করতে পারেনি। দেশে রাজাকারদের বিচার হয়েছে, তবুও কখনও হাসিনা সরাসরি হত্যার নির্দেশ দেননি। ফলত এই অভিযোগগুলি মিথ্যা।” তিনি জানান, রংপুরে নিহত ছাত্র আবু সাইদের পরিবারকে হাসিনা আর্থিক সহায়তাও দিয়েছিলেন।
আজ বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবে।