হাসিনার বিরুদ্ধে রায় একটু পরেই, দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ঠিক কী পরিস্থিতি বাংলাদেশে ?

ভারত থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রায়দান পর্ব চলছে। এই ঐতিহাসিক রায়কে ঘিরে গোটা বাংলাদেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভে জড়িতদের ওপর ‘গুলি চালানোর’ নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
ডেইলিহান্ট স্পেশাল:
২০২৪ সালের জুলাই মাসে তথাকথিত ‘গণঅভ্যুত্থান’-এর সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষণা হতে চলেছে। এই মামলার রায়দানকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ডাক দিয়েছে। এর ফলে গোটা বাংলাদেশের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
🤔 কী অভিযোগ হাসিনার বিরুদ্ধে?
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর জুলাই-অগাস্টের হিংসাত্মক আন্দোলনের ঘটনায় হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে—মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ ও নিরস্ত্র প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ তাঁর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করছে।
⚠️ পলাতক হাসিনা ও সহ-আসামিরা
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ‘পলাতক’ আছেন। তাঁর সঙ্গে এই মামলার অন্য দুই আসামি, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন-এর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খানও পলাতক।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।
🚨 উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
গত কয়েকদিন ধরেই এই রায়কে ঘিরে ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশে চরম তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিবিসি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল রাতেও ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাস ও দোকানে আগুন ধরানো এবং রাতভর মশাল মিছিলের মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ইউনূস সরকারের একজন উপদেষ্টার বাসভবনের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় জড়িতদের ওপর ‘গুলি চালানোর’ কঠোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে আজকের রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।