কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে BNS-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ, ‘রাজভবনে বন্দুক-বোমা’ মন্তব্যে কঠোর হলো রাজ্যপালের দপ্তর

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজভবন। রবিবার রাজভবন একটি কঠোর বিবৃতি জারি করে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর অধীনে অপরাধ করার অভিযোগ এনেছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে রাজভবনের ভেতরে “বন্দুক ও বোমা” রাখা এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।রাজভবনের মূল অভিযোগ ও যুক্তি:রাজ্যপালের দপ্তর থেকে জারি করা প্রেস নোটে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে “ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার অনিবার্য প্রভাব ফেলছে, যা রাজ্যের বা জনসাধারণের শান্তির বিরুদ্ধে জনগণকে প্ররোচিত করতে পারে।”হিংসাত্মক হামলার উসকানি: বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাজভবনে মাননীয় রাজ্যপালের কাছে বন্দুক ও বোমা রয়েছে এবং তিনি অপরাধীদের আশ্রয় দিচ্ছেন, এই কথা বলে শ্রী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মনে তাদের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ভয় ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছেন। এটি জনসাধারণের যেকোনো সদস্যকে রাজভবনে হিংসাত্মক হামলা চালাতে প্ররোচিত করতে পারে।”বিদ্বেষ জাগানো: রাজভবন আরও অভিযোগ করেছে যে, রাজ্যপাল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অপরাধীদের আশ্রয় দিচ্ছেন দাবি করে, তৃণমূল সাংসদ “শাসক দলকে সমর্থনকারী এক শ্রেণীর মানুষের মনে অন্য দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শত্রুতা, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের অনুভূতি জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন।”BNS, ২০২৩-এর কোন কোন ধারায় অভিযোগ:রাজ্যপালের দপ্তর এই মন্তব্যকে “অত্যন্ত উস্কানিমূলক এবং বিপজ্জনক” বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিম্নলিখিত ধারাগুলোর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন:ধারাঅভিযোগের প্রকৃতিধারা ১৫১ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী বিবৃতির মাধ্যমে ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতা বিপন্নকারী কাজ।ধারা ১৫২জনসাধারণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিকারী বিবৃতি।ধারা ১৯৭ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার।ধারা ১৯৬(১)(ক) ও (খ)বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার পক্ষে ক্ষতিকর কাজ করা।প্রেস নোটে বলা হয়েছে, “এই ধরনের অভিযোগের ফলে, মাননীয় রাজ্যপালের দপ্তর, যিনি একজন স্বাধীন সাংবিধানিক পদাধিকারী, সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ঐক্য এবং অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার প্রভাব ফেলে।”প্রসঙ্গত, এর আগে শনিবার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির শ্রীরামপুরে একটি অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেছিলেন যে রাজ্যপাল বোস “রাজভবনে বিজেপি অপরাধীদের আপ্যায়ন করছেন” এবং তৃণমূল কর্মীদের আক্রমণ করার জন্য তাদের অস্ত্র দিচ্ছেন।