নদীতে ভাসছে স্ত্রীর দেহ, গাছে ঝুলন্ত স্বামী, দম্পতির রহস্যমৃত্যু ঘিরে শোরগোল

শিলিগুড়ি লাগোয়া জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের থারুঘাটি এলাকায় একইসঙ্গে এক দম্পতিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে স্থানীয় একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহ দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানতে পারে, মৃত স্বামী তপন রায়ের (পেশায় রাজমিস্ত্রি) দেহ একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আর তার অল্প দূরেই, নদীর ধারে পড়ে ছিল স্ত্রী অনিমা রায়ের (স্থানীয় কারখানার কর্মী) নিথর দেহ। মৃত দম্পতির বাড়ি ভোলানাথপাড়া এলাকায়।

❓ খুন নাকি আত্মহত্যা? রহস্য ঘনাচ্ছে জোড়া মৃত্যুতে

 

প্রতিদিনের মতো শনিবার কাজ শেষে তপন ও অনিমা রায় একসঙ্গে বাড়ি ফেরেননি। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের পক্ষ থেকে আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরেই পরিবার এবং স্থানীয়রা মিলে এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। সেই সময়ই জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে প্রথমে অনিমার দেহ এবং পরে তপনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

পুলিশ দেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনা আত্মহত্যা নাকি খুন, তা নিয়ে পরিবার ও পুলিশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

💍 ‘সোনার গয়নার লোভে খুন!’

 

মৃত দম্পতির পরিবারের সদস্যরা এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, দুজনের গলাতেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ছেলে পাপন রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বাড়িতে কোনও ঝামেলা ছিল না। হঠাৎ আত্মঘাতী হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

পাপন রায়ের অভিযোগ, তাঁর মায়ের (অনিমা রায়) গায়ে কিছু সোনার গয়না ছিল। গয়নার লোভেই এই দম্পতিকে খুন করা হতে পারে বলে সন্দেহ পরিবারের।

পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।