BLO-র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, SIR-এর কাজের চাপে আত্মহত্যা জানালো পরিবার

উত্তর কেরলের কান্নুর জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) অতিরিক্ত কাজের চাপকেই এক বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) আত্মহত্যার কারণ হিসেবে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। এই ঘটনা রাজ্যটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রবিবার পয়ান্নুরে নিজের বাড়ির প্রথম তলার হলে গলা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অনিশ জর্জকে। ৪০-এর কাছাকাছি বয়সী অনিশ পয়ান্নুর সরকারি স্কুলে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নির্বাচনী দায়িত্বে তিনি ছিলেন বুথ লেভেল অফিসার।
পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। পরিবারের দাবি, SIR সংক্রান্ত ফর্ম পূরণ, যাচাই, এবং এলাকাবাসীর কাছে ফর্ম বিতরণের মতো বিশাল কর্মভার একা সামলাতে পারছিলেন না অনিশ।
⏰ গভীর রাত পর্যন্ত কাজ! “আর চাপ নিতে পারছিলাম না”
মৃত ব্যক্তির পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শ্যাম জানান, অনিশ জর্জ শনিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত কাজ করছিলেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সময়সীমা মেনে SIR-এর ফর্ম পূরণ ও বিতরণের তাড়া ছিল তাঁর। বন্ধু শ্যামের দাবি, অনিশ বারবার বলছিলেন, “এই চাপ তিনি আর নিতে পারছেন না।”
😡 ‘বিজেপির এজেন্ডা’ ও ‘খুনের রাজনীতি’! উত্তাল কেরলের রাজনীতি
এই ঘটনায় ক্ষমতাসীন সিপিআই(এম) এবং বিরোধী কংগ্রেস—উভয় পক্ষই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে।
সিপিআই(এম): দলের নেতা এম ভি জয়রাজন বলেন, “অতিরিক্ত কাজের চাপই তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা বহুদিন ধরেই BLO-দের ওপর চাপ নিয়ে কথা বলছি। SIR বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত।”
কংগ্রেস: নেতা রিজিল মাক্কুট্টি আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির এজেন্ডা পূরণ করতে তড়িঘড়ি SIR চালু করেছে, যার ‘শিকার’ হয়েছেন অনিশ জর্জ।”
🔎 রিপোর্ট চাইল কমিশন, চলছে সমান্তরাল তদন্ত
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (CEO) রথন ইউ কেলকার কান্নুর জেলা কালেক্টরের কাছ থেকে পুরো ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছেন।
কেলকার বলেন, “BLO-দের সাধারণত অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকার কথা নয়। SIR-এর ৩১ দিনের সময়সীমায় তাদের অন্য কোনো দায়িত্ব থাকে না। পুলিশি তদন্তে সবকিছু পরিষ্কার হবে।”
এদিকে, পুলিশ এখনো পর্যন্ত আত্মহত্যার ঘটনায় কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কাজের চাপের প্রকৃতি এবং SIR বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বাস্তবিক পরিস্থিতি জানতে সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন।