রোহিণীর বিস্ফোরণ, RJD-র ভাঙনের নেপথ্যে তেজস্বীর ‘কোর টিম’-এর সেই রামিজ! কে এই রহস্যময় ক্রিকেটার?

বিহার নির্বাচনে RJD-র ভরাডুবির পরই রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়ে পরিবার বর্জনের ঘোষণা করেন লালুপ্রসাদ যাদবের মেয়ে রোহিণী আচার্য। নিজের এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি তেজস্বী ঘনিষ্ঠ RJD সাংসদ সঞ্জয় যাদবের পাশাপাশি এক নতুন নাম তুলে আনেন— রামিজ নেমত খান (Rameez Nemat Khan)। এই অপ্রত্যাশিত অভিযোগে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন রামিজ, যাঁর নাম বিহারের রাজনীতিতে প্রায় শোনা যেতই না।
তেজস্বীর অন্দরমহলে রামিজ: ক্রিকেট থেকে রাজনীতি
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, রামিজ নেমত খান আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘কোর টিম’-এর সদস্য। ক্রিকেট খেলার মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই বন্ধুত্ব এখন রাজনীতির কৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ। তেজস্বীর প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া টিম— সবকিছুরই দেখভাল করেন রামিজ। এই মুহূর্তে রোহিণীর অভিযোগে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
কে এই প্রভাবশালী রামিজ?
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রামিজ নেমত খান শিক্ষাজীবনে ছিলেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রাক্তন অধ্যাপক নেমাতুল্লাহ খানের পুত্র। দিল্লি পাবলিক স্কুল এবং জামিয়া থেকে বিএ ও এমবিএ করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রাক্তন সাংসদ রিজওয়ান জাহিরের (MP Rizwan Zaheer) জামাই। রিজওয়ান জাহির উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী লোকসভা কেন্দ্র থেকে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির টিকিটে দু’বার সাংসদ হয়েছিলেন। রামিজের স্ত্রী জেবা রিজওয়ানও দু’বার নির্বাচন লড়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার রামিজ দিল্লি ও ঝাড়খণ্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন এবং ২০০৮-০৯ সালে ঝাড়খণ্ড আন্ডার-২২ দলের অধিনায়ক ছিলেন। সেই সময়েই তেজস্বীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
মামলা ও বিতর্ক ঘিরে অতীত
২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে RJD-তে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রামিজ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
২০২১ সালে কংগ্রেস নেতা দীবঙ্কর সিংহের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
২০২২ সালে তুলসীপুর নগরপঞ্চায়েতের প্রাক্তন সভাপতি ফিরোজ পাপ্পু খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে রামিজ, তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুর-সহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। বলরামপুরে ৯টি ও কৌশাম্বীতে ২টি মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালে ঠিকাদার শাকিল খানের হত্যায় অভিযুক্ত হন রামিজ। একই বছরে উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁর নামে কেনা প্রায় ৪.৭৫ কোটি টাকার জমি বাজেয়াপ্ত করে।
জুলাই ২০২৪-এ গ্যাংস্টার অ্যাক্টে তাঁকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছিল, চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি জামিন পান।
একাধিক মামলায় জামিন পেলেও, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে— রামিজ ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার বা নতুন মামলা করার আগে স্থানীয় আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক। বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও তেজস্বীর অন্দরমহলে রামিজের এই প্রভাবশালী ভূমিকা আরজেডি-র অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।