বার্ষিক পরীক্ষার আগে চরম সংকট! জামালপুরের এই স্কুলে চার শিক্ষকের সবাই এখন ‘BLo’, পঠনপাঠন শিকেয়!

রাজ্যে জোরকদমে চলছে ভোটার তালিকা পরিমার্জনের কাজ। আর এই কাজে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর ‘বুথ লেভেল অফিসার’ (BLo)-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানোয় রাজ্যের শিক্ষা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের হালাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি চরমে। এখানে মোট শিক্ষক-শিক্ষিকা মাত্র চারজন— লক্ষ্মীকান্ত মালিক, সুজিত বাগ, অভিজিৎ মিত্র এবং সুজাতা মিশ্র মুখোপাধ্যায়। উদ্বেগের বিষয়, এই চারজনই এখন বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত।
স্কুলে মোট পড়ুয়া সংখ্যা ১১২ জন। সামনেই বার্ষিক পরীক্ষা, কিন্তু শিক্ষকদের এই অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে ৪ নভেম্বর থেকে স্কুলের পঠনপাঠন কার্যত শিকেয় উঠেছে। প্রধান শিক্ষক সুজিত বাগ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “গত ৪ নভেম্বর থেকে আমাদের স্কুলে আসা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্কুল যাতে বন্ধ না হয়, তাই আমরা প্রত্যেকে একদিন করে স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। মিড-ডে মিল বন্ধ হওয়া আটকাতে হচ্ছে।” সহ-শিক্ষক অভিজিৎ মিত্রও একই কথা বলেছেন, “আমাদের চারজনকেই বিএলও করে দেওয়ায় আমরা যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়েছি। পড়ুয়াদের ঠিকমতো পড়াতে না পেরে আমাদেরও খারাপ লাগছে।”
স্কুলের এই বেহাল দশা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। এক পড়ুয়ার মা দেবিকা পোড়েল বলেন, “সামনেই ডিসেম্বর। বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। একজন অন্য স্কুলের শিক্ষক এসে এখন স্কুল সামলাচ্ছেন। এভাবে কী সিলেবাস শেষ হবে?”
পরিস্থিতি সামলাতে ব্লক প্রশাসন ইটলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহম্মদ আসিফ ফিদৌসিকে আপাতত হালাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহাল করেছে। তিনিও স্বীকার করছেন যে চাপ অনেকটাই বেশি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনের দিকেই আঙুল তুলেছেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান, “নির্বাচন কমিশন যদি রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে এই সমস্যা তৈরি হতোই না।”