রাজনীতি ছাড়বেন নাকি ভোটের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’?-পিকে কে নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

পাঁচ বছরের ব্যবধানে পুরোপুরি পাল্টে গেল রাজনৈতিক ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) ভাগ্য। ২০২০ সালের বঙ্গ-নির্বাচনে বিজেপিকে ‘১০০-র নিচে’ বেঁধে রাখার সফল ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৫-এর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাঁর দু’টি ভবিষ্যদ্বাণীই মুখ থুবড়ে পড়ল। জেডিইউ-এর বিপুল জয় এবং তাঁর নিজের দলের শূন্য আসন লাভ—এই ডাবল ধাক্কার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে, এবার কি রাজনীতি ছাড়বেন পিকে?

২০২৫ বিহার নির্বাচনের আগে প্রশান্ত কিশোর, যিনি এখন আর ভোটকুশলী নন বরং নিজের দল ‘জন সুরাজ’ নিয়ে ভোটের ময়দানে, তিনি একটি কড়া ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “লিখে নিন, জেডিইউ নিজের জোরে ২৫টি আসনও পাবে না। যদি পায়, রাজনীতি ছেড়ে দেব। নির্বাচনের পরে জেডিইউ-র অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে।”

কিন্তু ফলপ্রকাশে দেখা গেল, নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) ২৫টি নয়, প্রায় তার তিনগুণ অর্থাৎ ৮৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষের পথে বলে যে দাবি পিকে করেছিলেন (তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতির কারণ দেখিয়ে), তাও ভুল প্রমাণিত হলো।

নিজের দলের ভবিষ্যদ্বাণী মিলল, তবে…

নিজের দল ‘জন সুরাজ’ নিয়ে করা ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্য তিনি আংশিকভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন। ভোটের আগে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘অর্শ পে অর ফর্শ পে’ (হয় বিপুল ভোট, নয়তো শূন্য)। তিনি বিপুল ভোট পাননি, তবে শূন্যের কাছাকাছিই থেমেছেন। কর্মসংস্থান ও দুর্নীতিকে ইস্যু করে, নীল নকশা দেখিয়েও তাঁর দল পেয়েছে মাত্র ২ শতাংশ ভোট এবং একটিও আসন জেতা দূর অস্ত।

ভোটে তাঁর নিজের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হওয়া এবং নিজ দলের করুণ ফলাফলের পর প্রশান্ত কিশোর চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। প্রশান্ত কিশোরের X হ্যান্ডলের বায়োতে লেখা রয়েছে, ‘গান্ধীকে শ্রদ্ধা করি… প্রচলিত নিয়মের অনুসারী নই… মানবতাবাদী… জনগণের সম্মিলিত প্রজ্ঞায় বিশ্বাস রয়েছে।’ বিহার নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই ডাবল ব্যর্থতা নিয়ে তিনি মুখ খোলেননি। রাজনীতি ছাড়ার চ্যালেঞ্জ তিনি পূরণ করবেন, নাকি অন্য কোনো পথে হাঁটবেন, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।