‘ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন’ বিতর্কে চরম পদক্ষেপ, মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে CBI-কে চার্জশিট পেশের নির্দেশ লোকপালের!

লোকসভার ‘ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন’ বিতর্কে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে তদন্তের গতি আরও এক ধাপ বাড়ল। কৃষ্ণনগরের সাংসদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে অবশেষে অনুমতি দিয়েছে লোকপাল। লোকপালের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সিবিআইকে সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশিট জমা দিতে হবে। এই নথির একটি প্রতিলিপি লোকপাল দফতরেও পাঠাতে হবে।
গত শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে লিখিতভাবে জানানো হয়, যার অভিযোগের ভিত্তিতেই মহুয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল লোকপাল।
লোকপালের নির্দেশ পাওয়ার পর সিবিআই গত বছর থেকেই অভিযোগের খোঁজখবর শুরু করে। প্রায় ছ’মাস ধরে ২৬ জন সাক্ষীর বক্তব্য এবং ৩৮টি নথি সংগ্রহের পর সিবিআই রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে সিবিআই স্পষ্ট জানায়, মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি প্রয়োজন। সেই অনুরোধই এবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মঞ্জুর করা হয়েছে।
সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, মহুয়া মোট ৬১টি প্রশ্ন সংসদে তুলেছিলেন, যা ঘুষের বিনিময়ে করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এর মধ্যে তিনটি প্রশ্ন ব্যক্তিগতভাবে, মতামত প্রকাশ করে পেশ করেছিলেন এবং বাকি প্রশ্নগুলি অনলাইনে লগ ইন করে আপলোড করা হয়।
মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—তিনি দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ওই প্রশ্নের মাধ্যমে সরাসরি শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিশানা করা হয়েছিল। নিশিকান্ত দুবের দাবি ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলাই ছিল মহুয়ার উদ্দেশ্য।
এই বিতর্কে হীরানন্দানি নিজেই হলফনামা দিয়ে জানান, মহুয়ার সংসদীয় লগ ইন আইডি তাঁর জানা ছিল এবং সেই আইডি ব্যবহার করে তিনি প্রশ্ন পোস্ট করতেন। যদিও তিনি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
প্রসঙ্গত, এথিক্স কমিটির সুপারিশে গত ৮ ডিসেম্বর লোকসভায় মহুয়ার সাংসদ পদ বাতিল হয়ে গিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও, সম্প্রতি তিনি কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জিতে আবারও সাংসদ হয়ে ফিরেছেন। তবে এখনই আদালতে মামলার পরবর্তী ধাপ শুরু করার ছাড়পত্র মেলেনি। লোকপাল জানিয়েছে, চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার পরই সিবিআইয়ের দ্বিতীয় আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে। এখন নজর আদালতের দিকেই।