SIR আতঙ্ক, ‘ভুল হলেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে’! এপিক নম্বর না-থাকায় দুশ্চিন্তায় ব্রেনস্ট্রোকে মৃত্যু প্রৌঢ়ের, কাঠগড়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন।

আবারও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত ‘আতঙ্কে’ মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এল। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত চাটুরিয়া গ্রামে এসআইআর-এর দুশ্চিন্তায় ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ৬৯ বছর বয়সি জিয়ার আলি।
শনিবার সকালে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় জিয়ার আলির। তাঁর মৃত্যুর খবর চাউর হতেই পশ্চিম খিলকাপুর পঞ্চায়েত এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
কী নিয়ে ছিল আতঙ্ক?
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি SIR-এর এন্যুমারেশন ফর্ম হাতে পেয়েছিলেন জিয়ার আলি। এরপর তিনি যখন পুরনো ভোটার তালিকা (২০০২ সালের সংশোধিত তালিকা) পরীক্ষা করেন, তখন দেখেন—তাতে তাঁর নাম থাকলেও এপিক নম্বর (EPIC Number) অর্থাৎ ভোটার আইডি নম্বরটি ফাঁকা রয়েছে।
এই এপিক নম্বর না-থাকায় তিনি চরম চিন্তিত হয়ে পড়েন। কীভাবে ফর্ম পূরণ হবে এবং আদৌ তিনি ভোটার হিসেবে থাকতে পারবেন কি না, সেই দুশ্চিন্তা তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল।
মৃতের মেয়ে আশুদা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:
“বাবা মাঝে মধ্যেই ফোন করে বলত SIR-র ফর্ম ফিলাপ যেন ভুল না-হয়। ভুল হলেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। এই নিয়ে বাবা সবসময় দুশ্চিন্তা করত। সেই চাপ নিতে না-পেরে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। আমার বাবার মৃত্যুর জন্য এসআইআর আতঙ্কই দায়ী।”
দু’দিন আগে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই হঠাৎ ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন জিয়ার আলি। প্রথমে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং পরে এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
শনিবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে যান স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনিও এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি এসআইআর আতঙ্ককেই দায়ী করেন। মন্ত্রী দাবি করেন, জিয়ার আলির ২০০২ সালের তালিকায় এপিক নম্বর না-থাকলেও, ২০২৫ সালের খসড়া তালিকায় তাঁর নাম ও এপিক নম্বর ছিল। এই দ্বিধা এবং বিজেপি নেতাদের হুমকির কারণেই তিনি আতঙ্কিত ছিলেন বলে জানান রথীন ঘোষ।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি বিশ্বাস মন্ত্রীর দাবি মানতে নারাজ। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, শাসকদল তৃণমূলই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অপপ্রচার করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে, যার জেরেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।