ছেলেকে বহিষ্কারের পর এবার মেয়ের ‘ধাক্কা’! রাজনীতি ও পরিবার ছাড়লেন লালু-কন্যা রোহিণী আচার্য, টুইটে বললেন—’দায় আমার’।

রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)-এর সভাপতি তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের পরিবার ও রাজনৈতিক জীবনে ফের চরম ফাটল দেখা দিল। মাস কয়েক আগে বড় ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর এবার ‘ধাক্কা’ খেলেন নিজের মেয়ে রোহিণী আচার্যের (Rohini Acharya) কাছে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি-র ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই আরও একবার বড়সড় ধাক্কা খেল যাদব পরিবার। শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে রোহিণী আচার্য জানিয়েছেন, তিনি রাজনীতি এবং পরিবার—দুটো থেকেই সম্পর্ক ছিন্ন করছেন।

রোহিণীর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্ট
লালু-কন্যা রোহিণী, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক, তাঁর পোস্টে লিখেছেন:

“আমি রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছি। আমার নিজের পরিবারকেও অস্বীকার করছি। সঞ্জয় যাদব এবং রামিজ় আমাকে এটাই করতে বলেছিলেন। আপাতত এই সব কিছুর দায় আমি মাথা পেতে নিচ্ছি।”

আরজেডি-র অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই সঞ্জয় যাদব হলেন আরজেডি-র রাজ্যসভা সাংসদ এবং তেজস্বী যাদবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা। অন্যদিকে, রামিজ় হলেন উত্তর প্রদেশে স্থিতু তেজস্বীরই এক বন্ধু।

বিবাদের কেন্দ্রে কিডনি বিতর্ক?
২০২২ সালে অসুস্থ লালু প্রসাদ যাদবকে নিজের কিডনি দান করেছিলেন রোহিণী, যার পর তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন লালু। সেই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাঁকে বিহারের সারন লোকসভা কেন্দ্র থেকে টিকিটও দেওয়া হয়েছিল। যদিও ভোটে বিশেষ ডিভিডেন্ড তুলতে পারেননি রোহিণী।

একাংশের মতে, সেই কিডনি দান নিয়েই যাদব পরিবারে বিবাদ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এই কিডনি দানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার জবাবে রোহিণী হামেশাই প্রমাণ দাখিলের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগেও রোহিণীর সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে। কখনও তিনি ভাই তেজস্বী যাদবকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, আবার কখনও নিজের সমাজমাধ্যম থেকে লালু-তেজস্বীকে ‘আন-ফলো’ করেছেন। এবার তাঁর এই চূড়ান্ত ঘোষণা, আরজেডি এবং যাদব পরিবারের ফাটলকে আরও বেশি চওড়া করে দিল।