পরিবেশ ধ্বংস করে চলছে ব্যবসা! রিসর্টের বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ, ১৮০০ দোকান—কাঠগড়ায় শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গল।

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে বসা খোয়াই হাট (Khwai Haat) কোন সরকারি দফতরের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে, তা চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা (Affidavit) দিয়ে জানানোর নির্দেশ দিল জাতীয় পরিবেশ আদালত (NGT)। এই হাটের ‘বেআইনি’ কার্যকলাপ ও পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে মামলাটি করেছেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত।
আগামী ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হবে। বিচারক অরুণ কুমার ত্যাগী এই নির্দেশ দিয়েছেন।
কেন মামলা, কেনই বা ‘বেআইনি’?
পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের মূল অভিযোগ, বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণ আইন এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে ব্যবসায়িক হাট বসতেই পারে না—যা সম্পূর্ণরূপে ‘বেআইনি’।
বন দফতরের ব্যর্থতা: এর আগে বন দফতর হলফনামা দিয়ে হাটের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও, তারা জাতীয় পরিবেশ আদালতে জানাতে পারেনি যে সরকারের ঠিক কোন দফতরের নির্দেশে বা অনুমতিতে এই হাটটি চলছে। সুভাষ দত্ত এই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে পুনরায় হলফনামা দেন।
দূষণ পর্ষদের স্বীকারোক্তি: গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (PCB) কার্যত স্বীকার করে নিয়েছিল যে, জঙ্গলের মধ্যে প্লাস্টিক ও আবর্জনা পড়ে থাকে। এমনকি, হোটেল ও রিসর্টগুলি থেকে অপরিশোধিত বর্জ্য পদার্থ জঙ্গলেই ফেলা হয় এবং তাদের কাছে কোনও ছাড়পত্র নেই।
ধ্বংসের পথে সোনাঝুরির পরিবেশ
২০০০ সালে প্রবীণ আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে সপ্তাহে একদিন এই হাট শুরু হয়েছিল। কিন্তু পালা বদলের পর এর চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। বর্তমানে, জঙ্গলের পরিবেশ ধ্বংস করে হাটটি বৃহৎ আকার নিয়েছে।
বৃহৎ আকার: সপ্তাহের ১ দিনের বদলে প্রায় প্রতিদিনই হাট বসে এবং বর্তমানে প্রায় ১৮০০টি দোকান সোনাঝুরি জঙ্গলের মধ্যে পসরা সাজিয়ে বসে।
পরিবেশ দূষণ: যত্রতত্র প্লাস্টিক, আবর্জনার স্তূপ, এবং ছোট ছোট গাছ মারিয়ে গাড়ি ও বাইক পার্ক করার কারণে জঙ্গলের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নজরদারির অভাব: বন দফতর, বোলপুর পুরসভা, শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ, এমনকি শান্তিনিকেতন পুলিশেরও এই বেআইনি কার্যকলাপে নজর নেই বলে অভিযোগ।
হিসাবহীন অর্থ: এই হাট থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ থাকলেও, সেই অর্থ সরকারের কোন খাতে জমা পড়ে, তার সদুত্তর নেই কোনও দফতরের কাছে।
বর্তমানে এই ‘বেআইনি’ হাটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জাতীয় পরিবেশ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের উপর।