বিদ্যুৎ সুরক্ষার চরম অবহেলা! বিহারে একই পরিবারের ৫ সদস্যের করুণ পরিণতি, তদন্তে বিশেষ দল।

এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। ঘটনায় আরও সাত জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে মুজাফফরপুর জেলার মতিপুর থানা এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে গেনা শাহের বাড়ির তৃতীয় তলায় এই ভয়াবহ আগুন লাগে। স্থানীয়দের মতে, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণও হয়। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়নি পরিবারের কোনো সদস্যই।

নিহত ও আহতদের তালিকা

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন লালন কুমার (৩৫), তাঁর স্ত্রী পূজা কুমারী (৩০), মা সুশীলা দেবী (৬৫), ছেলে গোলু কুমার (২) এবং মেয়ে সৃষ্টি কুমারী (৭)।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন লালবাবু প্রসাদ, তাঁর স্ত্রী মালা দেবী, সাক্ষী কুমারী, অর্জুন কুমার, ঋষভ কুমার এবং আমান কুমার। তাঁদের মুজাফফরপুরের এসকেএমসিএইচ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

শর্ট-সার্কিট ও অবহেলার ইঙ্গিত

খবর পেয়ে মতিপুর থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকল বাহিনীর প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। মুজাফফরপুর ডিএসপি সুচিত্রা কুমারী এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিএসপি জানান, প্রাথমিক তদন্তে শর্ট-সার্কিটের কারণে আগুন লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলার জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, এটা একটা শিক্ষা।” ঘটনার ফরেনসিক এবং তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পর পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সম্ভাব্য সকল সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।