‘গভীর রাতে ফোন, ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি অসম্ভব’! কাজের চাপে ফুঁসছেন বিএলও-রা, শিলিগুড়ি-হাওড়ায় বিক্ষোভ-বয়কট।

রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর কাজে যুক্ত বুথ লেভেল অফিসারদের (BLOs) মধ্যে কাজের অত্যধিক চাপ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আজ শিলিগুড়ি ও হাওড়ায় বেশ কিছু বিএলও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তাঁদের মূল অভিযোগ—নির্বাচন কমিশন (EC) অহেতুক কাজের চাপ সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে রয়েছে গভীর রাতে নির্দেশ পাঠানো এবং ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রির জন্য হঠাৎ আদেশ জারি করা।

শিলিগুড়িতে প্রশিক্ষণ বয়কট

শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। কয়েকজন বিএলও একটি চলমান ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি প্রশিক্ষণ সেশন থেকে স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে আসেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, কমিশন “হঠাৎ” তাঁদের ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রিতে চলে যেতে এবং অবিলম্বে প্রশিক্ষণ নিতে নির্দেশ দিয়েছে, যা এত অল্প সময়ের মধ্যে সামাল দেওয়া অসম্ভব। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিদিন নতুন নতুন দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় কাজের চাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। গভীর রাত পর্যন্ত ফোন আসায় তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

শিক্ষিকা এবং আন্দোলনকারী বিএলও সহেলি নস্কর বলেন, “আমাদের স্কুলে ক্লাস নিতে হয় এবং তারপর চাপের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাজ শেষ করতে হয়। এখন তারা আমাদের ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রির জন্য বাধ্য করছে। এই ধরনের চাপের মধ্যে আমরা এই কাজ বয়কট করছি।”

হাওড়াতেও একই পরিস্থিতি

হাওড়াতেও একই ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের টিকিয়াপাড়ার ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাসের একটি সরকারি অফিসে প্রায় ২৪০ জন বিএলও-র ডেটা এন্ট্রি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাঁদের প্রধান অভিযোগ, ম্যানুয়ালি এবং ডিজিটালি—দু’বার ডেটা এন্ট্রি করতে বলা হচ্ছে, পাশাপাশি স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক ফর্ম কমিশনে জমা দেওয়ার চাপ আসছে।

আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষক-বিএলও প্রকাশ মাজি বলেন, “আমাদের প্রায় ২০০টি ফর্ম ম্যানুয়ালি এবং ডিজিটালি পূরণ করতে বলা হচ্ছে। আমরা এই চাপ নিতে পারছি না। প্রয়োজনে আমরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্মারকলিপি জমা দেব।” তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, অনেক বয়স্ক আধিকারিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় এই পরিবর্তনে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন এবং গণনা ফর্ম বিতরণের জন্য ৮০,০০০ এরও বেশি বিএলও নিযুক্ত আছেন।