স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন, নিঁখুত পরিকল্পনা, কিন্তু রহস্য ফাঁস! তথ্য লোপাটে কালো স্করপিও সার্ভিস সেন্টারে, চাঞ্চল্যকর তথ্য এল সামনে।

সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের ঘটনাটি নিঁখুত পরিকল্পনা করেই করা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ২৮ অক্টোবর যাত্রাগাছি থেকে দেহ উদ্ধারের পর এই ঘটনায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম জড়িয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজু ঢালি, তুফান থাপা এবং কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকার গ্রেফতার হয়েছেন। তবে মূল রহস্য লুকিয়ে আছে ব্যবহৃত গাড়ি এবং পলাতক অভিযুক্তদের মধ্যে।

তথ্য লোপাটে স্করপিও সার্ভিস সেন্টারে

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনে ব্যবহৃত একটি কালো স্করপিও গাড়ি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। অভিযোগ, খুনের ঘটনার পর তথ্য-প্রমাণ লোপাটের জন্য গাড়িটি একটি সার্ভিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। গাড়িটির মালিকের ঠিকানা হরিদেবপুরের ঠাকুরপুকুর এলাকায় হলেও, নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও তাঁর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

পলাতক দুই অভিযুক্ত ও রহস্যময় ফরচুনার

অন্যদিকে, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অপর একটি সাদা ফরচুনার গাড়ি নিয়ে সড়কপথে উত্তরবঙ্গের দিকে রওনা দিয়েছিলেন দুই অভিযুক্ত। গোয়েন্দারা এই দুই পলাতক ব্যক্তির খোঁজ করছেন, যাদের মধ্যে একজন বলিষ্ঠ চেহারার ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই ফরচুনার গাড়িটিরও এখনো খোঁজ মেলেনি।

বিডিও-র বাড়িতে মারধর এবং গাড়ির জালিয়াতি

তদন্তকারী আধিকারিকেরা এই ঘটনায় ১৬ জনের বয়ান রেকর্ড করেছেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জেরায় ধৃত রাজু ও তুফান দাবি করেছেন যে, বিডিও প্রশান্ত বর্মণই ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিউটাউনের বাড়িতে এনে মারধর করেন।

আরও জানা যায়, সাদা ফরচুনার গাড়িটি মধ্যমগ্রামের এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের নামে নেওয়া। ওই ইঞ্জিনিয়ার দাবি করেছেন, নিউটাউনে বাড়ি তৈরির সময় তাঁর আধার ও প্যান কার্ডের প্রতিলিপি নেওয়া হয়েছিল, সেই তথ্য দিয়েই জালিয়াতি করে গাড়িটি তাঁর নামে কেনা হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি রাজগঞ্জের বিডিও-কে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে।