শিক্ষিত সমাজ যা পারল না, তাই করে দেখালেন তমলুকের কৃষক! মৃত্যুর পর চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বার্থে দেহদান।

প্রত্যন্ত গ্রামের এক কৃষক যা করে দেখালেন, তা সমাজের কাছে এক বিরল দৃষ্টান্ত। আজীবন চাষাবাদ নিয়ে মেতে থাকা ৭৩ বছর বয়সী প্রসাদ চন্দ্র জানার (Prasad Chandra Jana) ছিল না কোনো পুঁথিগত শিক্ষা, কিন্তু তাঁর মহৎ কাজ সমাজের তথাকথিত শিক্ষিতদেরও অনুপ্রেরণা দেবে।
তমলুকের রামতারক হাট এলাকার বাহির আগড় গ্রামের বাসিন্দা প্রসাদ চন্দ্র জানা তাঁর জীবন দিয়ে প্রমাণ করলেন, ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। তাঁর মৃত্যুর পর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, বাড়ির লোক তাঁর দেহ তুলে দিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বার্থে তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের হাতে।
শিক্ষিত সমাজে যেখানে কুণ্ঠা, সেখানে কৃষকের অঙ্গীকার
বর্তমান সময়ে মৃত্যুর পর অঙ্গদান বা দেহদানের বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও, বহু শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও এই বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং কুণ্ঠা প্রচলিত। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের এক কৃষক এই কাজ করে দেখালেন।
জানা যায়, ২০১৯ সালের শেষের দিকেই প্রসাদ চন্দ্র জানা মরণোত্তর দেহদানের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। ২০২২ সালে দুর্গাপুজোর সময় কোলাঘাটের একটি পুজো কমিটির শিবিরে তিনি মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন। এই কাজে তাঁকে সম্পূর্ণ সাহায্য করেছিলেন প্রতিবেশী প্রশান্ত সামন্ত।
পরিবার সূত্রে খবর, মৃত্যুর আগের দিন হাসপাতালে যাওয়ার সময় গাড়িতে পরিবারের সদস্যদের তিনি বলে গিয়েছিলেন, “আমি যদি মারা যাই তোরা, আমার দেহদান করে দিবি হাসপাতালে।” তাঁর শেষ ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতেই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর দেহ দান করেন। এই মহৎ কাজটি সমাজে এক নতুন পথ দেখাল।