SIR আতঙ্ক, রাত থেকে লাইন পুরনিগমে! জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে ভোগান্তি দূর করতে বড় ঘোষণা মেয়রের।

রাজ্যজুড়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলার আবহে নিজেদের নাগরিক নথি জোগাড়ের হিড়িক পড়েছে নাগরিকদের মধ্যে। আর এই কারণে কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র শাখার অফিসের বাইরে বেশ কয়েকদিন ধরেই লম্বা লাইন নজরে আসছিল। এবার নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে দৈনিক সার্টিফিকেট প্রদানের সংখ্যা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরনিগম।

আগে কলকাতা পুরনিগম থেকে জন্ম ও মৃত্যু মিলিয়ে দিনে গড়ে ১৫০টির মতো শংসাপত্র দেওয়া হতো, যার ফলে বহু মানুষকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নাগরিকদের ভোগান্তি নজরে আসতেই খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিদিন মিলবে ৩০০ শংসাপত্র

মেয়রের নির্দেশের পর কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শংসাপত্র প্রদানের সংখ্যা ১৫০ থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হবে। অর্থাৎ, এবার থেকে প্রতিদিন ১৫০টি জন্ম শংসাপত্র এবং ১৫০টি মৃত্যু শংসাপত্র—সব মিলিয়ে মোট ৩০০টি শংসাপত্র প্রদান করা হবে। এতে রাজ্যের বহু নাগরিক উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরনিগম সূত্রে খবর, এসআইআর ঘোষণার পর শুধু কলকাতার বাসিন্দারাই নন, রাজ্যের বহু জেলা থেকেই নাগরিকরা নামের বানান ঠিক করা, প্রতিলিপি তৈরি বা নতুন সার্টিফিকেটের জন্য এসএন ব্যানার্জি রোডে অবস্থিত কলকাতা পুরনিগমের কেন্দ্রীয় ভবনে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। এই অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

যদিও মেয়র ফিরহাদ হাকিম আগেই আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যাবে না, তবুও নথি সংগ্রহের এই হিড়িক থামেনি। পুর কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান চ্যাট বটে কাজ করার পাশাপাশি হাতে কলমে নথি দেখে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলেও, জনগণের চাহিদা পূরণের জন্যই এই সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলো।