ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী শেষ কবে এলাকায় গিয়েছেন? শুটিং নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণ ও বিরোধী দল!

আগামী বছর যখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের বড় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের একাংশ ব্যস্ত তাঁদের বিনোদন জগতের পেশা নিয়ে। মূলত, প্রলয় সিরিজের তৃতীয় ছবি ‘আবার প্রলয় ২’-এর শুটিং শুরু হতেই এই বিতর্ক তুঙ্গে।
এই ছবির পরিচালনায় রয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকও এই ছবির সঙ্গে যুক্ত। জনপ্রিয় অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এই ছবিতে তাঁর আইকনিক নির্ভীক পুলিশ অফিসার অনিমেষ দত্তর ভূমিকায় ফিরছেন। সিরিজের প্রথম ভাগে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে পার্থ ভৌমিকের ‘হ্যালো স্যার’ সংলাপটি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল।
বিজেপি-র তীব্র কটাক্ষ: ‘পর্দার কাছে, জনতার কাছ থেকে দূরে’
নেটিজেনদের পক্ষ থেকে ছবির জন্য আগাম শুভেচ্ছা বার্তা এলেও রাজনৈতিক মহল, বিশেষ করে বিরোধী দল বিজেপি, এই ব্যস্ততা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে। বিজেপির অভিযোগ, “সামনে নির্বাচন, কিন্তু তৃণমূলের MP MLA-রা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত।” বিরোধী দলের সুরেই কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, “এরা মানুষের মধ্যে কম, সিনেমার পর্দাতেই বেশি থাকেন। সুতরাং এই ধরণের সেলিব্রিটি রাজনীতিবিদদের হাতে আর বাংলার দায়িত্ব রাখা যায় না।”
ব্যারাকপুরবাসীও এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, নির্বাচিত বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী শেষ কবে ব্যারাকপুরে এসেছিলেন, তা এলাকার মানুষ মনে করতে পারছেন না। জনগণের মতে, “এরা নিজেদের কাজেই ব্যস্ত, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় এদের নেই।” এই বিষয়ে অতীতে পার্থ ভৌমিকও বিরোধীদের কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন।
তবে, রাজনৈতিক বিতর্ক সত্ত্বেও ‘আবার প্রলয় ২’-এর শুটিং চলছে পুরোদমে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, নতুন মরশুমে গল্প আরও জটিল হবে। সমাজের অন্ধকার দিক, ক্ষমতার রাজনীতি, অপরাধ ও ন্যায় বিচার নিয়ে অনিমেষ দত্তকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী বছরেই ছবিটি মুক্তি পাবে।