লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’! ক্ষমতায় এলে ‘নারায়ণদের’ জন্যও বড় ঘোষণা—মালদায় সুকান্ত!

বিহারে NDA-এর বিপুল জয়ের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘লক্ষ্মী’ এবং ‘নারায়ণ’ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। শনিবার মালদায় এক সাংগঠনিক বৈঠক শেষে তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কেবল রাজ্যের মহিলাদের (লক্ষ্মী) কথাই ভাববে না, পুরুষদের (নারায়ণ) জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’
সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্য শোচনীয়। “2025 সালের মধ্যে রাজ্যের ঋণ প্রায় আট লাখ কোটি টাকায় পৌঁছে যাবে, অর্থাৎ প্রত্যেকের মাথার উপর এখন ৭০ হাজার টাকা করে ঋণ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় অঙ্কের টাকা বাড়ানো তৃণমূলের পক্ষে অসম্ভব। তবে তিনি রাজ্যের মহিলাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বিজেপির একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে আমি রাজ্যের মহিলাদের আশ্বস্ত করছি, ৫০ টাকা বেশি হলেও তৃণমূল যা ঘোষণা করবে, আমরা তার থেকে বেশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে দেব।”
তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল এখন লক্ষ্মীদের নারায়ণছাড়া করে দিয়েছে। লক্ষ্মী এখন গ্রামে থাকলেও নারায়ণরা জীবিকার খোঁজে গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ বা বেঙ্গালুরুতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিহারের ‘জীবিকা দিদি’-র মডেলে বাংলায় মহিলাদের স্বনির্ভর করার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাঁদের পরিবারকে বাইরে যেতে না-হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, বিহারের মতো এই রাজ্যেও সংখ্যালঘু মহিলাদের ভোট বিজেপির দিকে আসবে।
‘ডুয়ারে উগ্রপন্থী’ এবং দিল্লি বিস্ফোরণ
দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে উত্তর দিনাজপুর থেকে এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, এর আগে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের নাম জড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর-সহ বেশ কিছু অংশ এখন উগ্রপন্থীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থীদের মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এখানে এখন দুয়ারে উগ্রপন্থী প্রকল্প চালু হয়েছে।” তিনি সতর্ক করেন, “এখন দিল্লিতে ফাটাচ্ছে, দু’দিন পর রাজ্যের মানুষের বাড়ির সামনে বোমা ফাটবে।”
এছাড়াও, তিনি ডায়মন্ড হারবার-সহ রাজ্যের দিকে দিকে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, “আমরা প্রতিটি রক্তবিন্দুর হিসাব নিয়ে নেব। হিন্দুরা বুঝতে পেরেছে, যদি বিজেপি ক্ষমতায় না আসে তবে তাদের জন্য এই বঙ্গভূমি আগামীতে বধ্যভূমিতে পরিণত হবে।” তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজেপি সর্বধর্ম সমভাব নীতিতে বিশ্বাসী এবং সংখ্যালঘুদেরও মানুষ হিসাবে দেখে উন্নয়ন করতে চায়, যেখানে স্বাধীনতার পর থেকে তাদের কেবল মুসলিম হিসেবেই দেখা হয়েছে।