সাত ঘণ্টা পরও অনিয়ন্ত্রিত এজরা স্ট্রিটের আগুন! লালবাজারের কাছেই ‘জতুগৃহ’ পরিস্থিতি, ঘটনাস্থলে ২৩টি দমকল ইঞ্জিন

আবারও কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন। শনিবার ভোর ৫টা নাগাদ লালবাজারের অদূরে এজরা স্ট্রিটের একটি ইলেকট্রনিক্স গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা ১২টা) অর্থাৎ সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন এখনও সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি দমকল বাহিনী, যা শহরের অগ্নি-নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘জতুগৃহ’ বলে প্রমাণ করছে।

ঘিঞ্জি এলাকায় ২৩টি ইঞ্জিন
স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে মোট ২৩টি দমকলের ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছে এবং আগুন নেভানোর কাজে ল্যাডারের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন নেভাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদের। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইঞ্জিনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

দাহ্য পদার্থের মজুত: দ্রুত ছড়িয়েছে আগুন
দমকল সূত্রে খবর, গুদামটিতে প্রচুর পরিমাণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। এই কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিধ্বংসী আগুনের লেলিহান শিখা চারদিক গ্রাস করে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় গোটা এলাকা ঢেকে যায়।

শর্ট সার্কিটই কারণ?
কী কারণে গুদামে আগুন লেগেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। যদিও দমকল বাহিনী এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হবে।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
এই অগ্নিকাণ্ডের পর গুদামের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় কাউন্সিলর স্বীকার করে নিয়েছেন যে গুদামটির উপযুক্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার এখানে আগুন লাগে কারণ গুদামগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষিত। এর ফলে প্রায়শই আশপাশের ভবনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।