মহাজোটের ভরাডুবির দিনে বামেরা কার্যত শূন্য, ৩৩ আসনে লড়ে ঝুলিতে এল মোটে দুটি, বিজেপি’র জয়ের কারণ ব্যাখ্যা করল সিপিআইএম

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-এর বিপুল সাফল্যের দিনে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল মহাজোটের সঙ্গী বামপন্থী দলগুলি। এই নির্বাচনে বামেরা ৩৩টি আসনে প্রার্থী দিলেও দিনশেষে তাদের ঝুলিতে এল মোটে দুটি আসন।
বাম শিবিরের জয়ী দুই প্রার্থী
বিভূতিপুর আসনে জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) প্রার্থী রবীনা কুশওয়াহার বিরুদ্ধে ১০,২৮১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করলেন সিপিআইএম (CPIM)-এর প্রার্থী অজয় কুমার।
অন্যদিকে, পালিগঞ্জে লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর প্রার্থী সুনীল কুমারকে ৬,৬৫৫ ভোটে হারিয়ে জয় পেলেন সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর প্রার্থী সন্দীপ সৌরভ।
সিপিআইএম-এর দৃষ্টিতে বিজেপি’র জয়ের ‘বিস্ফোরক’ কারণ
ফলাফল ঘোষণার পর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিপিআইএম (CPIM) বিজেপির এই জয়ের পেছনে কিছু ‘বিস্ফোরক’ কারণ তুলে ধরেছে। তাদের অভিযোগ:
১. রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যবহার: ক্ষমতাসীন জোট সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে তাদের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে। ২. অর্থ ও কৌশল: বিজেপি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে এবং নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। ৩. সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ: প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী মেরুকরণের বক্তব্য থেকে তারা বিশেষভাবে লাভবান হয়েছে।
এছাড়াও, সিপিআইএম কর্পোরেট মিডিয়াকে তুলোধোনা করে দাবি করেছে যে, বিজেপি-অনুগত কর্পোরেট মিডিয়া মহাজোটের উত্থাপিত জনগণের মূল সমস্যাগুলিকে (যেমন বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য) ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দিয়েছে।
ভুল শোধরানোর বার্তা ও অঙ্গীকার
চূড়ান্ত হারের পর নিজেদের ভুল শোধরানোর বার্তা দিয়েছে সিপিআইএম। তাদের বক্তব্য, বিহারে বিজেপির জয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিরোধীদের আরও বেশি একজোট হয়ে লড়াই করা জরুরি। সিপিআইএম উল্লেখ করেছে যে বিহার নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে অন্যান্য কারণগুলিও তারা খতিয়ে দেখবে।
সিপিআই(এম)-এর পলিট ব্যুরো তাদের এবং অন্য দলের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য বিহারের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং শোষিত ও নিপীড়িতদের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।