রাজনীতিতে প্রথম ম্যাচেই ব্যর্থ পিকে, ‘স্কুল ব্যাগ’ প্রতীক নিয়েও খাতা খুলল না জন সুরাজ পার্টির, জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা!

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের দিনে রাজনীতিতে প্রথমবার সরাসরি মাঠে নামা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) দল জন সুরাজ পার্টি (JSP) শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একসময় তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে “বিহারের ৬০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তন চায়”, কিন্তু ভোট গণনার দিন কোথাও তাঁর দলের প্রতীক ‘স্কুল ব্যাগ’-এর চিহ্ন দেখা গেল না।
ব্যর্থ ভবিষ্যদ্বাণী ও শোচনীয় ফলাফল
গত বছর ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন, বিহারে বিধানসভা ভোটের মাত্র এক বছর আগে পিকে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠা করেন। লালু-নীতীশ-মোদী-রাহুলের বিকল্প হিসেবে জন সুরজকে তুলে ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সেই রণনীতি ভোট ময়দানে কাজ করেনি।
ভোট গণনার ট্রেন্ডে দেখা যায়, জেএসপি প্রার্থীরা ১০ শতাংশেরও কম ভোট আদায় করতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দলের ফলাফল এতটাই শোচনীয় যে, বিহারের ২৩৮টি বিধানসভা আসনে জন সুরাজ প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিয়মানুযায়ী, একজন প্রার্থীকে মোট ভোটের অন্তত এক ষষ্ঠাংশ পেতে হয়।
ফরবেসগঞ্জ আসনে জেএসপি প্রার্থী মহম্মদ একরামুল হক ২৪তম রাউন্ডের গণনার পর মাত্র ৭৮৯টি ভোট পেয়েছেন, যেখানে নোটা-তে প্রাপ্ত ভোট ২,২৫৩টি।
চনপটিয়া আসনের ত্রিপুরারি কুমার তিওয়ারি ওরফে মণীষ কাশ্যপ ১৬.৫৮ শতাংশ ভোট এবং জোকীহাট আসনে সরফরাজ আলম ১৬.৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। দলের খুব কম সংখ্যক প্রার্থীই ১০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন।
এসইউভি-তে প্রচার, অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অন্যান্য দলের নেতাদের মতো হেলিকপ্টারে নয়, এসইউভি গাড়িতে করেই দিন-রাত ঘুরে ভোট প্রচার করেছিলেন কিশোর। তাঁর দলের পক্ষ থেকে প্রচারের মাঝে অভিযোগ করা হয় যে, বিজেপি জন সুরাজকে ভয় পেয়েছে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং জন সুরাজের প্রার্থীকে ডেকে পাঠিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলেছেন। তবে এই অভিযোগ সত্ত্বেও ভোটবাক্সে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।
মোকামা বিধানসভা কেন্দ্রে জন সুরাজের প্রার্থী প্রিয়দর্শী পীযূষের হয়ে প্রচারে গিয়ে মৃত্যু হয় দুলার চাঁদ যাদবের। যদিও সেই হত্যার অভিযোগ উঠেছিল জেডি(ইউ) প্রার্থী অনন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে, কিন্তু গ্যাংস্টার হিসেবে পরিচিত সেই অনন্ত সিংই জয়ী হয়েছেন।
‘রাহুল দ্রাবিড়ের প্রথম ১০টি ওয়ান ডে ম্যাচের মতো’
নির্বাচনে ব্যর্থ হলেও দলের মুখপাত্র পবন কে বর্মা হার মানতে নারাজ। তিনি জানান, দলের এই ব্যর্থতা কেন হলো, তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে তিনি তুলনা টেনে বলেন: “রাহুল দ্রাবিড় তাঁর প্রথম দশটি একদিনের ম্যাচে ৫০ রানও করে উঠতে পারেননি। এদিকে তিনিই পরে বিশ্ব ক্রিকেটের ‘দ্য ওয়াল’ হয়ে উঠেছেন।”
রাজনৈতিক কৌশল বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোর এর আগে দাবি করেছিলেন যে তাঁর দল ১৫০টি আসন জিততে পারে। পরে তিনি বলেন, তাঁর দল হয় ইতিহাস গড়বে, নয়তো জন সুরাজকে কেউ মনেই রাখবে না। আপাতত তাঁর দল মাঝের পথেই আটকে রইল।