SIR-বিরোধিতা ফ্যাক্টর হল না বিহারে, ২৬ শে বাংলার ক্ষেত্রেও উঠলো যে প্রশ্নচিহ্ন?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশ কুমার ও NDA জোটের বিশাল জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন উঠেছে—ভোটের আগে প্রবলভাবে চর্চিত SIR (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলল? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘Popular Sovereignty’ বা জনতাই শেষ কথা। চুম্বকে বলতে গেলে, SIR ইস্যু নামক Bandwagon Effect-এর হাওয়ার রাজনীতিতে চুপিসারে জনতার মন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, যা ঠাহর করতে পারল না বিরোধীরা।

বিহারে SIR বিতর্ক ও জনতা রায়:

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এই বছর ২৪ জুন ভুয়ো, মৃত এবং অবৈধ ভোটারদের বাদ দিতে SIR প্রক্রিয়া শুরু করে। চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট বেরয় ৩০ সেপ্টেম্বর। SIR ঘোষণার পর থেকেই আরজেডি, কংগ্রেস সহ সকল বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে।

বিজেপির প্রধান বিরোধী মুখ তেজস্বী যাদব প্রথম থেকেই কমিশনকে আক্রমণ করে দাবি করেন, SIR করে বিরোধীদের ভোট কাটার ষড়যন্ত্র চলছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এটিকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক ভোটচুরি’ (Institutional Vote Theft) বলে আখ্যা দেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে দিল যে জনগণ বিরোধীদের এই আশঙ্কাকে পাত্তা দেয়নি, যার ফল স্বরূপ NDA ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতা প্রেম শুক্লার কথায়, কংগ্রেস SIR-এর বিরুদ্ধে কথা বলেই ১টি সিটে নেমে এসেছে।

বাংলার রাজনীতিতে SIR-এর ছায়া:

২০২৬ সালের বাংলায় ভোটের আগে SIR প্রক্রিয়া সেখানেও চলছে (৮ নভেম্বর থেকে BLO-রা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন)। এই নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি, দুই যুযুধান পক্ষই কড়া আক্রমণে নেমেছে।

  • TMC-এর অভিযোগ: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপি মতুয়া, রাজবংশী এবং বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের মতো ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।

  • BJP-এর দাবি: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, SIR হলে প্রায় ১ কোটি ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে, যার ফলে তৃণমূলের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের ভোটের মার্জিন কমবে। বিজেপি আরও দাবি করছে যে অবৈধ ভোটাররা এলাকা ছেড়ে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারে ফিরতে শুরু করেছে।

বাংলায় কী হতে পারে?

বিহারে SIR-এর পর NDA-র জয়জয়কার হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—পশ্চিমবঙ্গেও কি এমনটা হওয়ার চান্স রয়েছে?

  • প্রথম মত: বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। তাই বিহারের প্রতিফলন এখানে হওয়ার চান্স কম। তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে কিছুটা হলেও অ্যাডভান্টেজ পাবে।

  • দ্বিতীয় মত: অন্য মত হলো, বিজেপি ও তৃণমূলের ভোটের তফাৎ মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। যদি SIR-এর মাধ্যমে ভুয়ো, অবৈধ এবং মৃত ভোটাররা বাদ চলে যায়, তাহলে সেই মার্জিন কমে গিয়ে বিজেপি এগিয়ে যেতে পারে।

তবে এই দুই মতের মধ্যে ঠিক কোনটা ফলে যায়, তা জানতে ২০২৬ সালের ভোটের রেজাল্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া সত্যিই কোনও গতি নেই।