ডঃ শাহীনের জীবনের ৩ রহস্যময় মানুষ, হিজাব পরা কোন মহিলার সাথে দেখা হয়েছিল?

দিল্লি বোমা হামলার ঠিক আগে ফরিদাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ডাঃ শাহীন শহীদকে নিয়ে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে আসছে। একসময় কানপুরের জিএসভিএম মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করা এই ডাক্তারের গ্রেপ্তারির পর তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীরা হতবাক। কর্মীরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, চাপা স্বরে ডঃ শাহীনকে নিয়ে যে গোপন তথ্যগুলি ফাঁস হচ্ছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

নিখোঁজ হওয়ার আগে সেই ‘রহস্যময় ৩ জন’

জানা যাচ্ছে, ডাঃ শাহীনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়াটা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং ছিল সতর্ক পরিকল্পনার অংশ। সূত্র মারফত খবর, মেডিকেল কলেজ থেকে নিখোঁজ হওয়ার আগে থেকেই তিনজন রহস্যময় ব্যক্তি প্রায়শই তাঁর সাথে দেখা করতে আসতেন।

  • পরিচয়: এই তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন খাটো চেহারার মহিলা, যিনি সব সময় ধূসর হিজাব পরে থাকতেন।

  • সাক্ষাতের ধরন: প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন অন্তর এই তিনজন লোক শাহীনের সাথে দেখা করতে আসতেন। যখন তাঁরা আসতেন, শাহীনের মুখের ভাব অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে উঠত। তিনি সবাইকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসের এক শান্ত অংশেও তাঁদের কথা বলতে দেখা যেত।

আসল পরিচয় ফাঁস হওয়ার পর কর্মীরা এখন বলছেন, সেই সময় তাঁরা বিষয়টি লক্ষ্য করেননি, কিন্তু এখন তা ব্যাপকভাবে আলোচনার বিষয়।

‘কনৌজ’ থেকে ফেরার পরই বদলে যায় আচরণ

ডাঃ শাহীনের আচরণ ও মেজাজ ২০১৩ সালে মেডিকেল কলেজ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার আগে থেকেই বদলাতে শুরু করে।

  • বদলের মুহূর্ত: কেউ কেউ বলছেন, কনৌজ থেকে ফিরে আসার পর তাঁর হাসিখুশি ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি ধীরে ধীরে একাকী হয়ে ওঠেন এবং অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দেন।

  • পরিকল্পনা: জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগেই তিনি তাঁর গতিবিধি এবং পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন। স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদও তাঁর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

স্বামীকে তালাক, সন্তানদের নিতেও অস্বীকার!

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক মাস আগে ডাঃ শাহীন তাঁর স্বামী ডাঃ জাফর হায়াতকে তালাক দেন। তিনি এমনকি তাঁর দুই সন্তানকে নিজের কাছে রাখতেও অস্বীকার করেন

ডঃ শাহীনের প্রাক্তন স্বামী ডাঃ জাফর হায়াত তাঁর গ্রেপ্তারে মর্মাহত। তিনি জানান, শাহীন সবসময় বিদেশ যাওয়ার কথা বলতেন। ২০১৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তাঁদের আর কথা হয়নি।

অন্যদিকে, পাড়ার অন্যান্য ডাক্তারদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিবাহবিচ্ছেদের আগে কলেজ ক্যাম্পাসের L-29 নম্বর আবাসনে বসবাসকারী শাহীন ও তাঁর স্বামীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তাদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাসনপত্র রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটত বলে জানা যায়।