“দাবায়ে রাখতে পারবা না!”-ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে অগ্নিগর্ভ ঢাকা, ৩ দিনের মহা-অভিযান আওয়ামী লীগের!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে তপ্তভূমি। কট্টরপন্থীদের মদতে অন্তর্বর্তী সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যেই নিজেদের শক্তি প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ যখন দোরগোড়ায় (১৯ নভেম্বর), ঠিক তার আগেই, আজ, অর্থাত্‍ ১৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ অভিযান ঘোষণা করল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি ঘোষণা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকেই তুলে ধরছে। তাদের আহ্বান—অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ

আন্দোলনের শুরুতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই রাস্তায় সেনা ও পুলিশ নামানো হয়েছে

প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় নিরাপত্তা আরও মজবুত করা হয়েছে। এমনকি রাস্তায় থাকা পেট্রোল পাম্পগুলিতেও আপাতত জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের নির্দেশে।

আওয়ামী লীগের নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী এই লকডাউন অভিযানের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেন, ইউনূস সরকারের করুণ অবস্থা এবং মানুষের অসহযোগিতাকে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য। তিনি জানান, “ইউনূসের সরকারের সঙ্গে মানুষ আর নেই। রাজধানী ইতিমধ্যেই প্রায় জনশূন্য। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে এই বেআইনি ও দমনমূলক সরকারের সঙ্গে যুক্ত সব কিছুকেই বয়কট করছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাসের পর মাস দমন-পীড়ন সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের এই উত্থান বাংলাদেশে নতুন সূর্যোদয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউনূস সরকারে রাজনৈতিক আধিপত্য, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও নির্বিচারে গ্রেফতারের অভিযোগের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাইছে—নেতৃত্ব জেলে বা দেশের বাইরে থাকলেও তাদের জনসমর্থন অটুট।