৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে ৬ জায়গায় সিরিয়াল ব্লাস্টের ছক! বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ‘বদলা’ নিতে ভয়ঙ্কর প্ল্যান করেছিল ডাক্তার-জঙ্গিরা

গত ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণে দিল্লি কেঁপে উঠলেও, তদন্তে এবার উঠে এল আরও ভয়ঙ্কর নাশকতার ছক। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই বিস্ফোরণটি ছিল একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মাধ্যমে দেশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিল জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) মগজধোলাই করা ‘ডাক্তার-জঙ্গিরা’। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একযোগে দিল্লিতে ৬ থেকে ৭টি জায়গায় সিরিয়াল ব্লাস্ট ঘটানো।
৬ ডিসেম্বরকে বেছে নেওয়ার কারণ:
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র জেরায় ধৃত জঙ্গিরা স্বীকার করেছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ‘বদলা’ নেওয়া। সেই কারণে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ধৃতরা জানিয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদের ‘হোয়াইট কলার মডিউল’-এর এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করা। গোয়েন্দাদের ধারণা, জইশ প্রধান মাসুদ আজহার বহু বছর ধরে বাবরি মসজিদ বিতর্ককে খুঁচিয়ে দেশে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।
৫ ধাপে চূড়ান্ত নাশকতার পরিকল্পনা:
তদন্তে সামনে এসেছে যে, এই গোটা সন্ত্রাস পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ধাপে ধাপে বিস্তারিত ছক কষেছিল জঙ্গিরা। দিল্লিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জন্য তারা পাঁচ-ধাপের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছিল:
প্রথম ধাপ: জইশ ও আনসার ঘাজয়াত-উল-হিন্দের মদতে একটি শক্তিশালী মডিউল তৈরি করা।
দ্বিতীয় ধাপ: আইইডি (IED) তৈরির জন্য নুহ ও গুরুগ্রামের মতো জায়গা থেকে বিস্ফোরক সংগ্রহ করে মজুত করা।
তৃতীয় ধাপ: কেমিক্যাল আইইডি তৈরি করা এবং সম্ভাব্য টার্গেটগুলি চিহ্নিত করে সেখানে রেকি করে আসা।
চতুর্থ ধাপ: রেকি শেষ হওয়ার পর মডিউলের সদস্যদের মধ্যে বিস্ফোরকগুলি সরবরাহ করা এবং দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে সেগুলি রেখে আসা।
পঞ্চম ও শেষ ধাপ: ৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে ছয় থেকে সাতটি জায়গায় একসঙ্গে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো।
প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের অগস্ট মাসেই এই হামলার ছক কষা হয়েছিল, কিন্তু পরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ৬ ডিসেম্বরকে বেছে নেওয়া হয়।