ঢাকা পরিণত হলো দুর্গে! হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগে বাংলাদেশে বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, দেশে তাঁর প্রত্যাবর্তন “অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র” পুনরুদ্ধার, তাঁর আওয়ামী লীগ দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং স্বতন্ত্র, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আয়োজনের ওপর নির্ভরশীল।
ভারত থেকে পিটিআই-কে দেওয়া এক বিশেষ ইমেল সাক্ষাৎকারে হাসিনা মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করা এবং চরমপন্থী শক্তিকে শক্তিশালী করার অভিযোগ এনেছেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ নীতির সঙ্গে নিজের সরকারের নীতির তুলনা করে তিনি বলেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যে “ব্যাপক ও গভীর” সম্পর্ক রয়েছে, তা “ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন মূর্খতা” মোকাবিলা করতে সক্ষম হওয়া উচিত।
আগুনে পুড়ছে বাংলাদেশ, থমথমে ঢাকা
অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT)-এ গুরুত্বপূর্ণ রায় আসার আগে গত দুই দিন ধরে বাংলাদেশে অগ্নিসংযোগ ও দেশীয় বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া ছাত্র বিক্ষোভের স্মৃতি তাজা হয়েছে, যেখানে ৫০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল।
হাসিনার আওয়ামী লীগ দলের ডাকা অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলিতে একাধিক চেকপোস্ট তৈরি করা হয়েছে এবং গণপরিবহনে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আইসিটি-এর চারপাশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল হাসিনা এবং তাঁর শীর্ষ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবে। গত বছর আগস্টে ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা এবং ষড়যন্ত্র সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখায় আগুন
দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা ঢাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দিয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনা রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো শহরগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার এই সহিংসতার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দায়ী করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একটি শাখায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে সমস্ত আসবাবপত্র ও নথি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুহম্মদ ইউনূস, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান।