দিল্লি বিস্ফোরণ: গাড়ির সূত্র ধরে জালে পুলওয়ামার ডাক্তার! উমর মহম্মদের মায়ের ডিএনএ কেন সংগ্রহ করা হচ্ছে?

দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ এখন বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির সূত্র ধরে পুলওয়ামার এক চিকিৎসক উমর মহম্মদের ওপর নজর রাখছে। তদন্তকারীদের দাবি, গাড়িটির মালিকানা এখনও বদল না হওয়ায়, নথিতে থাকা মহম্মদ সলমন নামে এক ব্যক্তিকে রাতেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। যদিও সলমন দাবি করেছেন, তিনি গাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, যার বিবরণ যাচাই করা হচ্ছে।
দেহাংশ শনাক্তকরণের চেষ্টা
বিস্ফোরণস্থল থেকে যে দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে, তা শনাক্ত করার জন্য তদন্তের অংশ হিসেবে চিকিৎসক উমরের মায়ের ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে। গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, বিস্ফোরণকারীদের একজনকে চিহ্নিত করতে এই ডিএনএ নমুনা সহায়ক হতে পারে।
ডাক্তার-জঙ্গি চক্রের জাল
একই সময়ে, মঙ্গলবার লখনউ, সাহারানপুর এবং লখিমপুর খেরিতে তল্লাশি অভিযান চালায় তদন্তকারীরা। মুত্তাকিপুরে চিকিৎসক শহিদের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে নারী চিকিৎসক শাহিনকে অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদিল আহমেদ রেডার-এর গ্রেপ্তারের সূত্র ধরেই অন্যান্য চিকিৎসকদের নাম এই চক্রে উঠে এসেছে।
বিস্ফোরণের কারণ ও ‘অপরিণত’ আইইডি
তদন্তকারীরা এই বিস্ফোরণের পিছনে দুইটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে ভাবছেন:
বিস্ফোরক সরানোর চেষ্টা: ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার পর অভিযুক্তরা কি সতর্ক হয়ে বাকি বিস্ফোরক অন্যত্র সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিল?
দ্রুত বিস্ফোরণ: ধরা পড়ার আশঙ্কায় অবশিষ্ট বিস্ফোরক নষ্ট করতে বা তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি তো?
তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, ফরিদাবাদে অভিযান চলার আতঙ্কে অভিযুক্তরা দ্রুততার সঙ্গে একটি ‘অপরিণত’ আইইডি (IED) ব্যবহার করে থাকতে পারে। সে কারণেই দিল্লিতে বিস্ফোরণের বিস্তৃতি সীমিত ছিল, না হলে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারত।
একটি ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, গাড়িতে বিস্ফোরণের পর কমলা রঙের আগুন দেখা যায়। তদন্তকারী সূত্র বলছে, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জাতীয় বিস্ফোরকে এমন শিখা দেখা যেতে পারে। ফরিদাবাদ থেকেও একই ধরনের পদার্থ উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীরা দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন।
গাড়িটির হরিয়ানার নম্বর প্লেট এবং রেজিস্ট্রেশনের অসঙ্গতি তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনেছে।
তদন্তে কড়া বার্তা সরকারের
ঘটনার পরই প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত তদন্ত করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রসচিব, আইবি প্রধান, দিল্লি পুলিশের কমিশনার এবং এনআইএ-এর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে ধাপে ধাপে বৈঠক করেছেন। দোষীদের কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও।
উত্তরপ্রদেশ, কাশ্মীর এবং হরিয়ানাতে একই সূত্রে ছড়িয়ে পড়া এই জাল খোঁজার চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, এখনও চূড়ান্তভাবে কে এই সংঘটনের মাথা, তা নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তার স্বার্থে লালকেল্লা ও সংশ্লিষ্ট এলাকা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দিল্লি জুড়ে হোটেল রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।