‘কোন নিয়মে বহিস্কার?’ জেল থেকে ফিরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, অভিষেকের প্রতি কড়া ইঙ্গিত!

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে সরাসরি বাড়ি ফেরার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি বিস্ফোরক চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর মূল প্রশ্ন, দলের কোন নিয়মবলে তাঁকে তৃণমূল থেকে বহিস্কার (সাসপেন্ড) করা হলো?
চিঠির প্রত্যয়িত কপি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর ঠিকানাতেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে কী লিখলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে লেখা এই চিঠিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানতে চেয়েছেন, তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করার পিছনে দলের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা ভিত্তি আছে কিনা। চিঠিতে তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নব্য সেনাপতি’ বলে সম্বোধন করেছেন।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আক্ষেপ, এইরকম কঠিন সময়ে দলীয় বহু নেতার পাশে তৃণমূল দাঁড়ালেও, দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি যখন জেলবন্দী ছিলেন, সেই অবস্থাতেই তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
কবে লেখা হয়েছিল চিঠিটি?
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীদের দাবি, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী এই চিঠিটি লিখেছিলেন জেল থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময়। তবে তা এতদিন তাঁর বেহালার নাকতলার বাড়িতে পড়ে ছিল। জেল থেকে বাড়ি ফিরতেই সেই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই তাঁর নাকতলার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নিয়োগ দুর্নীতি এবং হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তি রাখার একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন তিনি জেলবন্দী ছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর সেখান থেকে সরাসরি বাড়ি ফিরেছেন তিনি। পার্থর অনুগামীদের দাবি, তিনি নির্দোষ এবং সুপ্রিম কোর্ট তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে।