দিল্লি বিস্ফোরণের আগে ফরিদাবাদে জইশ-এর মহিলা শাখার নিয়োগকর্তা ডাঃ শাহিন গ্রেফতার, ‘অপারেশন সিঁদুরের’ যোগসূত্র

নয়াদিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন মহিলা ডাক্তার। ধৃত ওই মহিলা ডাক্তারের নাম শাহিন সৈয়দ। অভিযোগ, তিনি ভারতে জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর জন্য মহিলা জঙ্গিদের নিয়োগের দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাঁর গাড়ি থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেলও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর শাহিনকে দ্রুত শ্রীনগরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই গ্রেফতারের সঙ্গে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর যোগসূত্র উঠে এসেছে।
বিশাল বিস্ফোরক উদ্ধার, লখনউয়ের মেডিক্যাল কলেজে লেকচারার ছিলেন শাহিন
মঙ্গলবার সকালে ফরিদাবাদের একটি বাড়ি থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। এর মধ্যে ৩৬০ গ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল। এই ঘটনার সূত্রে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ডাঃ শাহিন সৈয়দ।
সরকারি সূত্রে খবর, মধ্য তিরিশের ডাঃ শাহিন সৈয়দ লখনউয়ের জিএসবিএম মেডিক্যাল কলেজে ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত লেকচারার হিসাবে কাজ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে এটিএস (ATS)-এর একটি দল মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ সঞ্জয় কালা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শাহিন এর আগে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এরপরই তিনি হঠাৎ বেপাত্তা হয়ে যান।
জইশ-এর মহিলা শাখা ও আইএসআইএস যোগ
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শাহিন পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে নির্দেশ পেতেন এবং সেই নির্দেশ মেনেই তিনি নিষিদ্ধ জইশ সংগঠনের মহিলা শাখার জন্য মহিলা জঙ্গিদের নিয়োগ করতেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নিয়োগপ্রাপ্তদের দিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো।
চলতি বছরের অক্টোবরে জেইএম প্রধান মাসুদ আজহারের নামে একটি চিঠি প্রকাশিত হওয়ার পর জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর গঠনের ঘোষণা হয়। এই জঙ্গি সংগঠনের প্রধান করা হয় ইউসুফ আজহারের স্ত্রী সাদিয়া আজহারকে।
গত ৭ মে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেই অভিযানে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে জইশ-এর সদর কার্যালয় মারকাজ শুভানাল্লাহ ধ্বংস হয় এবং ইউসুফ আজহার নিহত হয়। এরপরই তার স্ত্রী সাদিয়াকে মহিলা জইশ সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগ, ডাঃ শাহিন আইএসআই (ISI)-এর নীতি মেনে মহিলা হামলাকারীদের নিয়োগ করছিলেন। তিনি ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এবং সিরিয়া (ISIS)-এর মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর পথে হেঁটে আত্মঘাতী হামলা সহ সন্ত্রাসবাদী কাজের জন্য মহিলাদের নিয়োগ করতেন। এদিকে ডাঃ শাহিনের বাবা মেয়ের এই জঙ্গি-যোগ নিয়ে কিছুই জানেন না বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।