দিল্লি বিস্ফোরণের আবহে সুন্দরবনের জলসীমায় চরম সতর্কতা, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়াল উপকূল রক্ষী বাহিনী ও পুলিশ

নয়াদিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ছায়া এবার পড়ল পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক জলসীমানায়। দেশের সব বড় শহরে সতর্কতা জারি হওয়ার পর এ রাজ্যের পুলিশও বাড়িয়েছে তৎপরতা। জোর দেওয়া হয়েছে রেলের সুরক্ষাতেও। এরই মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমানায় নজরদারি আরও বহু গুণ বাড়িয়ে দিল ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী (কোস্ট গার্ড)। সুন্দরবনের উপকূল পুলিশের সঙ্গে নিয়ে স্পিডবোটে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় টহলদারি শুরু করেছে তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশ কর্মীরা সুন্দরবনের নদী এবং বঙ্গোপসাগরে ফাইবার বোট (এফআইবি)-এ করে নজরদারি চালাতে শুরু করেন। এই অঞ্চলে বহু মৎস্যজীবী ট্রলারে করে মাছ ধরতে যান। টহলদারির সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা হলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। মৎস্যজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— জলের মধ্যে কোনওরকম সন্দেহজনক জলযান বা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখলেই যেন অবিলম্বে স্থানীয় উপকূল থানা, কোস্ট গার্ড এবং মৎস্যজীবী অ্যাসোসিয়েশনকে দ্রুত খবর দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবনের জলসীমা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এই পথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নদী এবং বনভূমি এলাকায় সর্বদাই সজাগ দৃষ্টি রাখছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ভাসমান বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) থেকেও চলছে জোরদার নজরদারি। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের অংশে উপকূলরক্ষী বাহিনীও পুরোদমে টহল চালাচ্ছে। শুধু জলপথ নয়, উপকূল এলাকার স্থলপথেও পুলিশের টহল ও নাকা তল্লাশি অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। নদী ও জেটিঘাটগুলিতে যাওয়ার সমস্ত রাস্তাতেও চলছে কঠোর তল্লাশি। প্রতিবেশী বাংলাদেশ থাকায় আন্তর্জাতিক জলপথগুলিতে চলাচলকারী বাংলাদেশী এবং বিদেশি জাহাজগুলিতেও আলাদা করে নজরদারি রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে বার্জগুলিও রয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারির আওতায়। জলসীমায় যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, সেই জন্য কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সদা সতর্ক রয়েছে।