‘মৃত’ নবজাতককে ২ বছর পর মায়ের কোলে ফেরাল জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ! পটাশপুরের প্রতিমা পাল ফিরে পেলেন সন্তানকে

দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের আইনি জটিলতা ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে নিজের সন্তানকে ফিরে পেলেন পটাশপুরের আড়গোয়ালের বাসিন্দা প্রতিমা পাল। একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক ও দালাল চক্রের হাতে বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি উদ্যোগ নেয় জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ।

কী ঘটেছিল সেই দিন?

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট। প্রতিমা পাল একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে সন্তান প্রসব করেন। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জন্মের পর শিশুটিকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে এবং শিশুটির মৃতদেহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারকে জানায়।

পরে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ সত্য—নার্সিংহোম মালিক ও এক দালাল মিলে নবজাতকটিকে প্রায় দুই লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ক্রেতা মহিলা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কাগজপত্রের অভাবে সন্দেহ হয়। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং নার্সিংহোম মালিক, তার স্ত্রী, দালাল ও ক্রেতাকে গ্রেফতার করে।

তদন্তে প্রতিমাকে শনাক্ত করা হয় এবং পুলিশ তাঁকে জানায় যে তাঁর সন্তান জীবিত ও সুস্থ আছে। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে শিশুটিকে কাঁথির একটি হোমে রেখে দেওয়া হয়, যেখানে সে কাটিয়েছে প্রায় দুই বছর।

আইনি কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ:

চলতি মাসের ৩ তারিখে প্রতিমা পাল জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে আসেন। সচিব সুদীপা ব্যানার্জির নেতৃত্বে দপ্তরটি দ্রুত নথি যাচাই, আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে। মাত্র দশ দিনের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এর ফলস্বরূপ, নিমতৌড়ির চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে সোমবার বিকেলে শিশুটিকে তার মা প্রতিমা পালের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মায়ের আবেগ:

সন্তানকে ফিরে পেয়ে প্রতিমা পাল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তান ফিরে পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সুদীপা ব্যানার্জি বলেন, “আমরা দ্রুত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুটিকে মাকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। এই ঘটনা প্রমাণ করে, আইন সকলের পাশে আছে।”