৪৪ বছর বয়সে কিংবদন্তী অভিনেতার মৃত্যু! লিভার সুস্থ রাখতে দেশের সেরা ডাক্তার এস কে সারিনের ‘গোপন’ টিপস!

তামিল, তেলেগু ও কন্নড় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা কিঙ্গার মাত্র ৪৪ বছর বয়সে লিভারের গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তরুণ প্রজন্মের লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শরীরকে সচল রাখার জন্য লিভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি, আর এর যেকোনো সমস্যা পুরো শারীরিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।
বিশিষ্ট লিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শিবকুমার সারিন একটি সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন যে অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা, জাঙ্ক ফুড, শরীরচর্চার অভাব এবং অ্যালকোহলই মূলত লিভারের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক। অনেকেই মনে করেন, কেবল স্থূল ব্যক্তিরাই ফ্যাটি লিভারের শিকার হন, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। রোগটি দ্রুত বাড়ছে এবং বহু তরুণ-তরুণী এর শিকার হচ্ছেন, যাদের অনেকের রোগই আবার পরীক্ষা না করানোর ফলে ধরা পড়ছে না।
এই ৫টি ভুল আপনার লিভারকে নীরবে শেষ করছে!
ডাক্তার সারিনের মতে, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে করা এই পাঁচটি ভুল লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে:
১. অতিরিক্ত ভাজা, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয়: এই ধরনের খাবার লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ২. ব্যায়ামের অভাব: শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাব স্থূলতা এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ৩. অপর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ: ক্রমাগত মানসিক চাপ এবং ঘুমের ঘাটতি লিভারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ৪. অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন: অ্যালকোহল লিভারের কোষ ধ্বংস করে এবং মারাত্মক ক্ষতি করে। ৫. ঘন ঘন ওষুধ গ্রহণ: বারবার ব্যথা বা জ্বরের ওষুধ সেবনও লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
লিভার সুস্থ রাখতে ড. সারিনের ৩টি অব্যর্থ টিপস
ডাক্তার সারিন লিভারের রোগ প্রতিরোধের জন্য তিনটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
- আপেল: লিভারের জন্য ম্যাজিক ফল ডাক্তার সারিন জোর দিয়ে বলেছেন, প্রত্যেকেরই প্রতিদিন সকালে কমপক্ষে একটি বা দুটি আপেল খাওয়া উচিত। আপেল লিভারকে ডিটক্সিফাই করে, টক্সিন মুক্ত করে এবং রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
- কালো কফি: চর্বি গলানোর হাতিয়ার প্রতিদিন এক কাপ চিনিমুক্ত কালো কফি পান করা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। কালো কফি লিভারে জমা চর্বি দূর করে এবং সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
- বদভ্যাস ত্যাগ ও সতর্কতা লিভারকে সুস্থ রাখতে অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন, স্বাস্থ্যকর ঘরে তৈরি খাবার খান, প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপ করুন এবং বছরে অন্তত একবার লিভার পরীক্ষা করান।
ডাক্তার সারিনের মতে, এই সাধারণ সতর্কতাগুলি অবলম্বন করলেই তরুণ প্রজন্ম লিভারের রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।