৩ ঘণ্টা গাড়িতে বসে কী করছিলেন ডা. উমর? তদন্ত ঘুরছে ‘গোপন ইশারা’ ও বিস্ফোরকের প্রকৃতির কেন্দ্রে!

লাল কেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবার নিশানায় রহস্যময় ‘৩ ঘণ্টা’। দিল্লি পুলিশ এবং দেশের সুরক্ষা এজেন্সিগুলি তাদের তদন্তকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে সীমাবদ্ধ করেছে: মূল সন্দেহভাজন ডা. উমরের ‘গোপন’ গতিবিধি, ফরিদাবাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ব্যবহৃত বিস্ফোরকের প্রকৃতি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i-20 গাড়িটির চালক ডা. উমর কেন পার্কিং লটে প্রায় তিন ঘণ্টা (বিকাল ৩:১৯ থেকে সন্ধ্যা ৬:২২) অতিবাহিত করলেন? তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কি গাড়ির কাছেই ছিলেন, কারো সঙ্গে দেখা করেছেন, নাকি বিস্ফোরণের আগে ভিড় জমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন? বিশেষ করে, তিনি কি এই উচ্চ-নিরাপত্তার এলাকায় কারো সাহায্যের বা কোনো ‘স্লিপার সেলের’ ইঙ্গিতের জন্য অপেক্ষা করছিলেন?
তদন্তের দ্বিতীয় প্রধান দিকটি হলো ফরিদাবাদের ওই বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসকের নাম তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ সেই সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সদস্যদের খুঁজে বের করছে, যাদের স্লিপার সেলের সঙ্গে যুক্ত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, দিল্লি বিস্ফোরণ এবং ফরিদাবাদের বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার (৩৬০ কেজি সন্দেহজনক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও আইইডি তৈরির সরঞ্জাম) আন্তঃরাজ্য সক্রিয় একটি বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের অংশ।
এছাড়াও, তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন—উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরক কোথা থেকে এলো, তা কি বিভিন্ন চালানে এসেছিল, এবং কারা এই বিতরণে সহায়তা করেছে। অভিযুক্তরা যোগাযোগের জন্য যে টেলিগ্রাম গ্রুপটি ব্যবহার করত, পুলিশ তার অন্যান্য সদস্য এবং কার্যক্রমের মেয়াদ ও পরিচালনাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ডা. উমর, মুজাম্মিল বা আদিল কি দিল্লিতে ব্যক্তিগতভাবে রেকি করেছিলেন, নাকি অন্য কোনো অপারেটিভের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।