বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকে মিষ্টি খাইয়ে গ্রামবাসীদের তীব্র কটাক্ষ, ‘৫ বছরে কী করেছেন দিদি?’

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনসংযোগে জোর দিতে গিয়ে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল তাঁর ‘পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই’ কর্মসূচিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়লেন। আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডামরা গ্রামে ঢুকতেই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিধায়ক এবং তাঁর অনুগামীরা এলাকায় পৌঁছাতেই একদল গ্রামবাসী মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে এগিয়ে আসেন। প্রথমে এটিকে সাধারণ শুভেচ্ছা বিনিময় মনে হলেও, মিষ্টি খাওয়ানোর পরই গ্রামবাসীরা অগ্নিমিত্রা পালকে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তাঁদের তির্যক প্রশ্ন: “গত পাঁচ বছরে আমাদের জন্য কী করেছেন দিদি? আমাদের সৌভাগ্য যে আজ আপনাকে গ্রামে দেখতে পাচ্ছি। তাই মিষ্টিমুখ করুন।”

‘কোথায় আপনার অফিস? কেন পাঁচ বছরে এলেন না?’

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর অগ্নিমিত্রা পাল আর কখনওই ডামরা গ্রামের পথ মাড়াননি। তাঁরা জানতে চান, “দিদি, আপনার বিধায়ক অফিস কোথায়? আপনাকে প্রয়োজনে কোথায় পাওয়া যায়? আমরা তো জানি আপনি কলকাতাতে থাকেন।” পাশপাশি ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য বিগত পাঁচ বছরে বিধায়ক কী কাজ করেছেন, তার হিসেবও দাবি করেন তাঁরা।

অগ্নিমিত্রা পাল তাঁর বিধায়ক দফতর আসানসোলের ইভলিন লজে থাকার কথা জানান এবং বিধায়ক কোটা থেকে করা কাজের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তবে গ্রামবাসীর মূল প্রশ্ন ছিল, শুধুমাত্র ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য তিনি কী করেছেন। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না-দিয়েই বিধায়ক এলাকা ছাড়েন বলে অভিযোগ।

পাল্টা আক্রমণ ও তৃণমূলের কটাক্ষ

ঘটনাটিকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বিজেপিকে ‘ধাপ্পাবাজ দল’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “গ্রামবাসীরা মিষ্টি খাইয়ে অগ্নিমিত্রাকে এলাকাছাড়া করেছেন, এটা খুব ভালো হয়েছে। জেলার তিন বিজেপি বিধায়কের কাউকেই এলাকায় পাওয়া যায় না। আগামী নির্বাচনে মানুষ এর জবাব দেবে এবং তৃণমূলই আবার জয়লাভ করবে।”

অন্যদিকে, অগ্নিমিত্রা পাল ওই প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের ‘তৃণমূল কর্মী’ বলে চিহ্নিত করেন। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল যদি ভাবে এভাবে হেনস্তা করে আমাদের দমানো যাবে, তাহলে ভুল করছে। আমি দমব না, আবার যাব। আমি যেমন সাধারণ মানুষের বিধায়ক, তেমনই সেখানে বাস করা তৃণমূল কর্মীদেরও বিধায়ক। কটূ কথা বললেও, আমি আমার জনসংযোগ চালিয়ে যাব।”