জাল ছড়াচ্ছে বিদেশেও! বাংলাদেশ যোগের সূত্র ধরে সাইবার অপরাধ দমনে বড় সাফল্য কলকাতা পুলিশের, গ্রেফতার দুই যুবক

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিদেশেও জাল ছড়ানো একটি প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। ভুয়ো কল সেন্টার খুলে ভারত ও বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

লালবাজার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ দমনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে কলকাতা পুলিশ, যার তদন্তে বাংলাদেশ যোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

অপরাধের ধরন: ভুয়ো কল সেন্টার ও প্রলোভন
তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করত। তারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিক এবং বাংলাদেশের একাধিক ব্যক্তিকে ফোন করে প্রলোভন দেখাত।

পদ্ধতি: কখনও ভুয়ো বিবাহের প্রতিশ্রুতি, আবার কখনও যৌন সম্পর্কে আনন্দের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা চালানো হতো।

ফাঁদ: হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো স্ক্রিনশট, জাল পেমেন্ট রসিদ, অনলাইন লেনদেনের মিথ্যা প্রমাণপত্র এবং প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটের ছবি পাঠিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিত এই চক্র।

নতুন BNS ধারায় মামলা ও অভিযুক্তদের পরিচয়
এই ঘটনায় মামলা নং ৫৩/২৫ অনুযায়ী, তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৬(সি)/৬৬(ডি) সহ সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ভারতীয় দণ্ডবিধি (BNS), ২০২৩-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল (১৪ অক্টোবর ২০২৫) কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযুক্তদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। ধৃত দুই যুবক হলো:

রাজু পাত্র (২৬): পিতা স্বরূপ পাত্র, বাসিন্দা গল্ফগ্রিন, বিক্রমগড় থানা, কলকাতা।

কুশল দাস (৩২): পিতা নবকুমার দাস, উদয়নারায়নপুর থানা, জংকা, হাওড়া।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে ছ’টি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সাইবার পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য দেশের বাইরে, বিশেষত বাংলাদেশেও, ছড়িয়ে থাকতে পারে। তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সাইবার সংস্থার সহায়তা নেওয়া হতে পারে। অভিযুক্তদের বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।