শ্বাস নেওয়াও বিপজ্জনক! ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা দিল্লি, ভারতের সবচেয়ে দূষিত ১০ শহরের শীর্ষে জাতীয় রাজধানী

উত্তর ভারতের আকাশ আবারও ঢেকে গেল ঘন ধোঁয়ার আস্তরণে। শনিবার সকাল থেকেই দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চোখ জ্বালা, গলা চুলকানো ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা তীব্রভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এদিন দেশের সবচেয়ে দূষিত ১০ শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে জাতীয় রাজধানী দিল্লি।
সিপিসিবি-র মানদণ্ড অনুসারে, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI যদি ৪০০-এর উপরে যায়, তবে তা ‘গুরুতর’ বা ‘ভয়াবহ’ বলে চিহ্নিত হয়। এই মানদণ্ড অনুযায়ী দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলির বাতাসের মান বিপজ্জনক মাত্রায় রয়েছে।
দিল্লির কিছু এলাকায় AQI ৩৭৩ পর্যন্ত নথিভুক্ত হয়েছে, যা ‘অত্যন্ত খারাপ’ শ্রেণিতে পড়ে এবং সুস্থ মানুষের শরীরেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে মুন্ডকা অঞ্চলে AQI ৩৬৩ এবং আনন্দ বিহারে AQI ৩৫২ রেকর্ড করা হয়েছে।
হরিয়ানা-উত্তর প্রদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তর ভারতে শুষ্ক আবহাওয়া, যানবাহনের নির্গমন এবং নির্মাণস্থলের ধুলোর কারণে বাতাসের মান দ্রুত খারাপ হয়েছে।
গাজিয়াবাদের বাসুন্ধরা: ৩৫৩
নয়ডার সেক্টর ৬২: ৩০৯
উত্তরপ্রদেশের হাপুরে: ২৮০
এছাড়াও হরিয়ানার একাধিক জেলা এদিন গুরুতর দূষণের তালিকায় উঠে এসেছে— পানিপথে AQI ৩১০, জিন্দে ২৯৪, ফতেহাবাদে ২৯২।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সরকারি উদ্যোগ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী মহিলা এবং হাঁপানি বা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অবশ্যই এন ৯৫ (N95) বা সমতুল্য মানের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বায়ুদূষণ মোকাবিলায় দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই সরকারি দপ্তরের সময়সূচি পরিবর্তন করার পাশাপাশি নির্মাণকাজ সহ যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণে বাড়তি নজরদারি জোরদার করার কথা জানিয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় খড় পোড়ানো (Stubble Burning), যানবাহনের ধোঁয়া, এবং নির্মাণস্থলের ধুলোর মতো কারণগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি নীতি না নেওয়া হলে পরিস্থিতি প্রতি বছরই আরও বিপজ্জনক হতে পারে।