মার্ক জুকেরবার্গের বিরুদ্ধে ‘বিশেষ সুবিধা’ নেওয়ার অভিযোগ! অনুমতি ছাড়া স্কুল চালানোর দায়ে বিপাকে মেটা প্রধান

মেটা (Meta) এবং ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকেরবার্গ (Mark Zuckerberg) এবং তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান (Priscilla Chan) এক নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন। জানা গেছে, পালো অল্টো (Palo Alto)-তে অবস্থিত তাঁদের একাধিক বিলাসবহুল বাড়িতে কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই একটি বেসরকারি স্কুল চালানো হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে এই স্কুলটি শহরের জোনিং (Zoning) বিধি লঙ্ঘন করেছে এবং এই ধনকুবেরকে প্রশাসন ‘বিশেষ সুবিধা’ দিয়েছে।
‘মিনি ক্যাম্পাস’-এ চলত স্কুল ‘ওয়্যার্ড’ (Wired)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্ক জুকেরবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রিসেন্ট পার্ক এলাকায় ১১টি সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি সম্পত্তি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এই বাড়িগুলির মধ্যেই ২০২১ সাল নাগাদ ‘বিকেন বেন স্কুল’ (Bikken Ben School) নামে একটি ব্যক্তিগত স্কুল পরিচালিত হচ্ছিল। জানা যায়, এই স্কুলটির নামকরণ করা হয়েছিল জুকেরবার্গ পরিবারের একটি মুরগির নামে। কিছু রিপোর্ট বলছে, এই স্কুলে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই স্কুলটি সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকায় চলছিল, যেখানে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালানোর অনুমতি নেই।
প্রতিবেশীদের তীব্র অসন্তোষ ‘ওয়্যার্ড’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, জুকেরবার্গ এবং চ্যানের এই স্কুল পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা শহর প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের মূল অভিযোগ, জুকেরবার্গকে “বিশেষ ছাড়” দেওয়া হচ্ছে। এক ক্ষুব্ধ প্রতিবেশী ইমেলের মাধ্যমে লিখেছেন, “আপনারা আমাদের বিশ্বাস অর্জন করেননি। এই সম্পত্তি মালিকের ভালো উদ্দেশ্যের উপর নির্ভরশীল যে কোনো সমাধান আগে থেকেই ব্যর্থ।”
স্কুল ছাড়াও প্রতিবেশীরা দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্মাণ কাজ, প্রচুর নিরাপত্তারক্ষীর উপস্থিতি এবং এলাকায় ট্র্যাফিক বৃদ্ধির কারণেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেক প্রতিবেশীই বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এই টেক ধনকুবেরের পাশে জীবনযাপনকে “অসহনীয়” বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রশাসন ও জুকেরবার্গের প্রতিক্রিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পালো অল্টো প্রশাসন তাদের উপর ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। শহরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্পত্তি যাঁরই হোক না কেন, জোনিং এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশ ছিল, মার্চ ২০২৫-এ জুকেরবার্গ পরিবারকে বিনা অনুমতিতে চলা স্কুলটি ৩০ জুনের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে। যদিও ‘ওয়্যার্ড’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জুকেরবার্গের মুখপাত্র দাবি করেছেন যে স্কুলটি বন্ধ হয়নি, বরং সেটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে, স্কুলটি বর্তমানে কোথায় চলছে, তা স্পষ্ট নয়।