কেন্দ্রের পর রাজ্যের প্রকল্পেও কাটমানির কালো ছায়া! মালদায় ‘বাংলার বাড়ি’ থেকে নাম বাদ ২০ জন গরিব উপভোক্তার

কেন্দ্রের আবাস যোজনার পর এবার রাজ্য সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠল মালদা জেলায়। উপভোক্তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ‘কাটমানি’ দিতে না পারায় সুপার চেকিং-এর সময় চূড়ান্ত তালিকা থেকে যোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক উপভোক্তার ভগ্নপ্রায় মাটির বাড়ির ছবি দেখিয়ে অন্য এক অযোগ্য ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে।
প্রতিটি ঘটনাই ঘটেছে মালদা উত্তর মহকুমায়। মহকুমাশাসক ঋত্বিক হাজরা জানিয়েছেন, অভিযোগ জমা পড়লে অবশ্যই খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কাটমানির অভিযোগ চাঁচলের দেবীগঞ্জে
চাঁচল ১ নম্বর ব্লকের অলিহণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর:
বঞ্চিত: গ্রামের অন্তত ২০ জন প্রকৃত উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এঁদের কারও মাটির ঘর, আবার কারও পাটকাঠির বেড়ার ঘর।
কাশেম আলীর বক্তব্য: দিনমজুর কাশেম আলি বলেন, “সরকারি ঘরের তালিকায় আমার নাম ছিল। ইনকোয়্যারির সময় আমার কাছে ২০০০ টাকা চাওয়া হয়। আমি গরিব মানুষ, টাকা দিতে পারিনি। তাই আমার নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।”
মাজেদ আলীর বক্তব্য: তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। মাজেদ আলীর অভিযোগ, “যাদের একতলা বাড়ি, তাদের নাম তালিকায় রয়েছে। তারা একতলা বাড়িকে দোতলা বানাচ্ছে। আর টাকা দিতে না পারায় আমার নাম বাদ গিয়েছে।”
হরিশ্চন্দ্রপুরে ছবি চুরির অভিযোগ
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের তুলসিহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঙ্গাবাড়ি গ্রামেও একই ঘটনার প্রতিচ্ছবি। দিনমজুর পীতাম্বর দাসের ভগ্নপ্রায় মাটির বাড়ির ছবি তুলে নিয়ে গেলেও পরে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ যায়।
শকুন্তলা দাসের অভিযোগ: পীতাম্বরের স্ত্রী শকুন্তলা দাস বলেন, “ঘরটা আমাদেরই ছিল। কিন্তু ইনকোয়্যারিতে এসে আমাদের ঘরের ছবি দেখিয়ে অন্য একজনের নাম তালিকায় তুলে দিয়েছে। গরিবকে ঘর না-দিয়ে বড়লোকদের সরকারি ঘর দেওয়া হয়েছে।”
পীতাম্বর দাস ইতিমধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও-কে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
তৃণমূল-বিজেপির তরজা
ভোটের মুখে এই দুর্নীতি নিয়ে তরজা জমে উঠেছে।
বিজেপির তোপ: বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া দাবি করেন, “তৃণমূল মানেই কাটমানিখোর, তৃণমূল মানেই চোরের দল। এরা এর আগে কেন্দ্রের আবাস যোজনার ঘর চুরি করেছিল, এখন বাংলার বাড়ি চুরি করছে।”
তৃণমূলের জবাব: মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, “কেউ সরকারি বাড়ি পাওয়ার যোগ্য থাকলে এবং সরকারের তরফে দেওয়া মানদণ্ডে তাঁরা পড়লে, তাঁরা অবশ্যই বাড়ি পাবেন। এটা কেন্দ্রের টাকা নয়, রাজ্য সরকারের টাকা।” তিনি বিডিও-দের খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
মহকুমাশাসক ঋত্বিক হাজরা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে অবশ্যই খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।