পুনের তরুণী ভোট দিলেন বিহারে? ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে ফের সরব কংগ্রেস

হরিয়ানার নির্বাচনে ব্রাজিলিয়ান মডেল ল্যারিসা নেরির ছবি ব্যবহার করে ২৫ লাখ ভোট চুরির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় রাজনীতিতে এবার দ্বিতীয় একটি ঘটনা শোরগোল ফেলে দিল। পুনের বাসিন্দা, এক তরুণী আইনজীবী উর্মি নিজের আঙুলে ভোটের কালি লাগানো একটি সেলফি পোস্ট করে দাবি করেছেন, তিনি বিহারে ভোট দিয়েছেন!

তাঁর এই পোস্টের পরই কংগ্রেস নেতৃত্ব এটিকে ‘ভোট চুরির দ্বিতীয় প্রমাণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছে।

মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও উর্মির (পেশায় আইনজীবী) করা একটি এক্স (X) পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গত বৃহস্পতিবার (বিহার নির্বাচনের প্রথম দফায়) তিনি নিজের আঙুলে ভোটের কালি লাগানো সেলফি পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন:

“মোদীময় ভারতের জন্য ভোট দিলাম। গিয়ে ভোট দিলাম, বিহার।”

কংগ্রেস কর্মীরা দ্রুত এই ছবিটি খুঁজে বের করেন এবং দাবি করেন, এক রাজ্যের ভোটার হয়ে অন্য রাজ্যে ভোট দেওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অতুল লোন্ধে প্যাটেল কটাক্ষের সুরে বলেন, “লোকসভায় আমি ভোট দেব মহারাষ্ট্রে আর বিধানসভায় বিহারে। মোদীর জন্য ভোট চুরি করব আমি।” একইসঙ্গে আরজেডি (RJD) মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা ভারতী বলেন, “বিজেপি লাজলজ্জা সব বিক্রি করে দিয়েছে। প্রশ্ন করলে বলে, ‘সিস্টেম আমাদের।’ ভদ্রমহিলা খোলাখুলি লিখেছেন, মোদীর ভারত গড়তে চাই। বিজেপি পুরো সিস্টেমটাই কিনে নিয়েছে।”

সেলফি ঘিরে জল দ্রুত গড়াচ্ছে দেখে উর্মি পরে আরও একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন যে তিনি বিহারে গিয়ে ভোট দেননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কেবল বিহারের ভোটারদের অনুপ্রাণিত করা।

উর্মির বক্তব্য: “ওটা মোটিভেশনাল পোস্ট ছিল। কোথাও বলিনি, বিহারে গিয়ে ভোট দিয়েছি। শুধু বলেছি, ভোট দিয়েছি। আর সবাই জানেন, সেটা মহারাষ্ট্রে। শান্ত হয়ে বসুন। এ বার আপনার পালা বিহার – যান, ভোট দিয়ে আসুন।”

তবে এই ‘সাফাই’ পোস্টের পরেও বিতর্ক থামেনি। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, শুধুমাত্র অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য কেন একজন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা বিহারের প্রসঙ্গ তুলবেন এবং তাঁর আঙুলে কালির ছাপ থাকবে?

উল্লেখ্য, এর আগে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী হরিয়ানার নির্বাচনে ব্রাজ়িলিয়ান মডেল ল্যারিসা নেরি-র ছবি ব্যবহার করে ১০টি বুথে ২২ বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। ল্যারিসার পুরনো ছবি ‘ফ্রি টু ডাউনলোড’ ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ল্যারিসা নিজেও ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, কীভাবে ভারতীয় ভোটার কার্ডে তাঁর ছবি এল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এই পরিস্থিতিতে শাম্ভবী চৌধুরীর দুই আঙুলে কালির ছাপ এবং উর্মির এই বিতর্কিত সেলফি, সব মিলিয়ে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় সন্দেহের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে।