খরচ না করেই দেখুন ‘মিনি অ্যামাজন’! কলকাতার বুকেই রয়েছে ৫২ বিঘার ঘন জঙ্গল, কোথায় জানেন?

বিশ্বের বৃহত্তম অ্যামাজন জঙ্গলে যাওয়ার সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলোয় না অনেকেরই। কিন্তু আপনার জন্য সুখবর! কলকাতার কাছেই রয়েছে প্রকৃতির এক টুকরো স্বর্গ, যা ঘন সবুজ আর জীববৈচিত্র্যের কারণে পরিচিত ‘মিনি অ্যামাজন’ নামে। এটি হলো চিন্তামণি কর বার্ড স্যাঙ্কচুয়ারি (Chintamoni Kar Bird Sanctuary)।পাখি ও প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য৫২ বিঘা জমির ওপর তৈরি এই পাখিরালয়টি একসময় “কায়লার বাগান” নামে পরিচিত ছিল। এটি বিখ্যাত ভাস্কর চিন্তামণি কর-এর নামে নামকরণ করা হয় এবং সংরক্ষিত এলাকাটি মূলত জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য তৈরি।জীববৈচিত্র্য: এই ঘন জঙ্গলে গেলে আপনার চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। এখানে প্রায় দু’শো প্রজাতির পাখি রয়েছে, যাঁদের ডাক শুনতে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এটি স্বর্গরাজ্য।অন্যান্য আকর্ষণ: পাখির পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রজাপতি, ফার্ন এবং অর্কিড দেখা যায়। এছাড়া বন্য শেয়াল, গোসাপ এবং অন্যান্য প্রজাতির পশু-পাখিও দেখা যায়।ভ্রমণের সুবিধা: এখানে একটি ওয়াচ টাওয়ারও রয়েছে, যেখান থেকে আপনি গোটা জঙ্গলের দারুণ কিছু দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।শীতকালে ভ্রমণের ঠিকানাসামনেই শীতকাল আসছে। এই সময়ে প্রকৃতি দেখার মজাই আলাদা। চড়ুইভাতির জন্য বা প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি সেরা গন্তব্য।স্থানটি কলকাতা থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।ভ্রমণের মাধ্যমগন্তব্যের তথ্যঅবস্থাননেতাজি সুভাষ রোডের পশ্চিমে, নরেন্দ্রপুরের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের কাছে।ট্রেনেহাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল নরেন্দ্রপুর। শিয়ালদহ থেকে দূরত্ব প্রায় ১৫ কিমি।গাড়িতেগড়িয়া থেকে বারুইপুর বাইপাস ধরে গেলে প্রায় আধ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যায়।বাস/অটোতেগড়িয়া বা অন্য জায়গা থেকে অটো ধরে নরেন্দ্রপুর রথতলায় নামতে পারেন, সেখান থেকে টোটো বা হেঁটে ৫ মিনিটে অভয়ারণ্যে পৌঁছানো যায়।সকাল সকাল নিজেদের গাড়ি করে বেরিয়ে পড়তে পারলে, বারুইপুর যাওয়ার পথেই এক বার ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন এই সুন্দর পাখিরালয়ে।