SIR-আতঙ্কের মাঝে চরম রহস্য! BDO অফিসের ঝোপে উদ্ধার ‘নতুন’ ভোটার কার্ডের স্তূপ

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন ‘এসআইআর’ (SIR- Social Identity Register) বা ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে চরম আতঙ্ক চলছে, ঠিক সেই সময়েই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে প্রশাসনিক কৌতূহলের জন্ম দিল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকালে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের পিছনের ঝোপ থেকে উদ্ধার হয়েছে একগুচ্ছ ভোটার কার্ড।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্ডগুলিকে ‘বাতিল’ বলে দাবি করা হলেও, কেন এমন সংবেদনশীল নথি অফিসের পিছনে গোপনে ফেলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্থানীয় মহলে।
🗑️ ঝোপে লুকানো ‘নতুনের মতো’ কার্ড
বৃহস্পতিবার সকালে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে নিজের কাজে গিয়েছিলেন স্থানীয় যুবক পবিত্র রায়। অফিসের পিছনের দিকে যেতেই ঝোপের মধ্যে তাঁর চোখে পড়ে একটি ব্যাগ। কাছে গিয়ে দেখেন, ব্যাগের ভেতর শতাধিক ভোটার কার্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
পবিত্র রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “কার্ডগুলো দেখে মনে হচ্ছিল একদম নতুনের মতো। সদ্য ফেলা হয়েছে বুঝতে পারছিলাম।” কার্ডগুলির মধ্যে রাজগঞ্জ ব্লকের বেলাকোবা, শুখানি, শিকারপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের নাম লেখা ছিল। সবগুলিই ২০০৬ সালে ইস্যু করা।
ওই যুবক বিষয়টি দপ্তরের কর্মীদের জানিয়ে চলে যান। কিন্তু পরে ফিরে এসে দেখেন, ঝোপের মধ্যে কার্ডগুলি আর নেই। ততক্ষণে অবশ্য খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
🤔 প্রশাসনের দাবি ও বিতর্ক
কার্ডগুলি উদ্ধারের খবর চাউর হতেই অফিস চত্বরে ভিড় জমে। কেউ কেউ মনে করছেন, ‘সার’ প্রকল্পের সময় হয়তো পুরোনো বা বাতিল কার্ড ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি কার্ডগুলি সত্যিই বাতিল হয়, তবে এতগুলি একসঙ্গে অফিসের পিছনে গোপনে কেন ফেলা হলো এবং কেনই বা পরে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হলো?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে যুগ্ম বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ঝোপের মধ্যে যে ভোটার কার্ড পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি বাতিল। গুদাম ঘর থেকে কোনওভাবে বাইরে চলে গিয়েছে।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কিছুদিন আগে অফিসের গুদাম থেকে পুরোনো সামগ্রী সরানো হয়েছিল, সেই সময় কার্ডগুলি বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে বিডিও প্রশান্ত বর্মন বর্তমানে দফতরে অনুপস্থিত। তাঁর বিরুদ্ধে একটি খুনের অভিযোগ থাকায় প্রশাসনিক এই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।